রপ্তানি বহুমুখীকরণে কৌশলগত বৈষম্য রয়েছে
রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

রপ্তানি বহুমুখীকরণে কৌশলগত বৈষম্য রয়েছে

রপ্তনি বহুমুখীকরণে কৌশলগত কিছু বৈষম্য রয়েছে। রপ্তানিতে পোশাক খাতকে যে সুবিধা দেয়া হচ্ছে একই সুবিধা যদি অন্যদেরকে দেয়া হয় তাহলে অন্য খাতগুলো পোশাক খাতের মতো উঠে আসতে পারেবলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ইন্টার্নেশনাল ফিনান্স করপরেশন (আইএফসি) এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ কর্তৃক আয়োজিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ নিয়ে এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, আমরা যেহেতু পোশাক খাতকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রপ্তানিতে এত ভালো অবস্থানে এসেছি। অন্যান্যদেরকে সুযোগ দিলে আমরা রপ্তানি বহুমুখীকরণে ভালো করতে পারব। এক্ষেত্রে আমাদের পলিসিগত বৈষম্য রয়েছে। তবে বৈষম্য সর্বক্ষেত্রেই আছে। বিশেষ করে পোশাক খাতকে এক ভাবে দেখা হচ্ছে অন্য খাতগুলোকে আরেকভাবে দেখা হচ্ছে। পোশাক খাতের মতো অন্যান্য খাতগুলো কেউ যদি আমরা সুবিধা দিতে পারতাম। তাহলে কিন্তু আমরা একটু রপ্তানিতে বহুমুখী হতে পারতাম।

তিনি বলেন, সামষ্টিকভাবে পোশাকখাতও কিন্তু দুর্বল হয়ে পড়ছে। সেখানে একটা ভারসাম্যহীনতা আসছে । কারণ আমরা প্রতিযোগিতা সক্ষমতাটা হারিয়ে ফেলেছি। দেখা যাচ্ছে গত তিন থেকে চার বছর ধরে চামড়াও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়েছে। এখান থেকে উত্তরণে সামষ্টিকভাবে সাপোর্ট দিতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি বেশকিছু উদ্দ্যোগ নিতে হবে। শর্ট টার্মে এক্সচেঞ্জ রেটকে আবার পূনমূল্যায়ন করে দেখতে পারি।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, শুধু পোশাক খাত যে সাপোর্ট গুলো পাচ্ছে সেগুলো দিলেই শুধু হবে না। আরো কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন চামড়ার ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে সেন্ট্রাল ইটিপি এখনো প্রস্তুত নয়। চায়না থেকে সরকার যেটা এনেছে সেটা থেকে জনগণ তো কোন বেনিফিট পাচ্ছে না। যতদিন পর্যন্ত আমরা এনভায়রনমেন্টাল মিট না করব ততদিন পর্যন্ত ইউরোপীয়রা বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনবে না।

তিনি বলেন, কমপ্লায়েন্স কিন্তু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কমপ্লায়েন্স প্রস্তুত না হলে বিদেশীরা বিনিয়োগে আসবেনা। পোশাক খাতে কিন্তু আমরা অনেকটা কমপ্লায়েন্স হয়ে গেছি। কমপ্লায়েন্স না হলে শিল্পের ক্ষেত্রে চামড়া ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ক্ষেত্রে কোন ক্ষেত্রেই লাভ হবে না। আর কমপ্লায়েন্স ছাড়া আজকের দিনে বিনিয়োগ বেশি দূর যেতে পারবেনা।

পিআরআই’র এই পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের এক্সপোর্ট আমরা যেভাবে চাচ্ছিলাম সেভাবে হয়নি। আমাদের প্রোডাক্ট বেজটি খুব সংকীর্ণ। একটা পণ্য নিয়ে একটা দেশ উন্নয়নের বেশি দূরে এগিয়ে যেতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পোশাক খাত হচ্ছে একটা মইয়ের প্রথম ধাপ। এই প্রথম ধাপ আমাদেরকে পেরোতে হবে যদি আমরা উন্নতি করতে চাই। কাজেই আমাদের রপ্তানিতে বহুমুখী করতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী রফতানি মেডেল দেয়ার সময় রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথাটি বলেছিলেন। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারছিনা।

অর্থসূচক/এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ