‘ভুলবশত’ ইউক্রেনের প্লেনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ: ইরান
মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ভুলবশত’ ইউক্রেনের প্লেনে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ: ইরান

ইরানের তেহরানে গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী প্লেন বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৭৬ আরোহী প্রাণ হারান। ‘ভুলবশত’ ইরানের সামরিক বাহিনী ওই প্লেনটি ভূপাতিত করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটি।

আজ (শনিবার) সকালে এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে জানায়, গত সপ্তাহে তেহরানের অদূরে ইউক্রেনের যে যাত্রীবাহী বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে একটি স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনার নিকটবর্তী হওয়ার পর মানবীয় ত্রুটির কারণে শত্রুর জঙ্গিবিমান ভেবে সেটিতে গুলি চালানো হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩ জানুয়ারি বাগদাদে মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তেহরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলাকে বিবেচনায় নিয়ে মার্কিন বিমান বাহিনীর তৎপরতা ভীষণভাবে বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে বহু সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা গ্রহণ করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতের পরপরই ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর ইরানের আকাশসীমার আশপাশে মার্কিন জঙ্গিবিমানের আনাগোনা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারগুলোতে অসংখ্য শত্রু বিমান ধরা পড়ে। এ অবস্থায় এই ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সৈন্যরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ রকম একটি সংকটময় ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইউক্রেনের ৭৫২ ফ্লাইটটি ইমাম খোমেনী (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং টার্ন নেয়ার সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র একটি সামরিক স্থাপনার আকাশে চলে আসে। এ সময় রাডারে বিমানটিকে শত্রুর জঙ্গিবিমান বলে প্রতীয়মান হয় এবং মানবীয় ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিতে গুলি চালানো হয়।

বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়।
এর আগ পর্যন্ত ইরান তাদের ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনের প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা প্লেনটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকেই দাবি করে আসছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাতেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

সে সময় কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, সম্ভবত ইউক্রেনের যাত্রীবাহী প্লেনটিকে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেবে ভূপাতিত করে ইরান। তারা হয়তো ভেবেছিল বাগদাদে মার্কিন স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ নিতে তাদের আকাশসীমায় ঢুকেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ