বেড়েছে পাঠ পণ্যের ভিন্নতা: বাজারে পলিব্যাগ, ঢেউটিন ও চেয়ার-টেবিল
শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বেড়েছে পাঠ পণ্যের ভিন্নতা: বাজারে পলিব্যাগ, ঢেউটিন ও চেয়ার-টেবিল

দিন দিন বাড়ছে পাট পণ্যের ব্যাবহার। আর এই পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাটকে আরো কত আকর্ষনীয় ভাবে ব্যবহার করা যায় সেটাই বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাঠ পণ্যের স্টলগুলো ঘুরে সেই চিত্রই দেখা গেল।

আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) ও জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা যায় দেশ বিদেশে কতো ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আমাদের সোনালী আশ পাট।

মেলায় গিয়ে দেখা যায়, পাট দিয়ে এবার তৈরী হয়েছে সোনালী ব্যাগ। যা আমাদের সোনালী আশ পাট দিয়ে তৈরী, এসেছে টিনের বিকল্প ঘরের শেড হিসেবে পাটের শেড, পাটের বেসিন, পাটের চেয়ার-টেবিল, পাটের ট্রে। এছাড়া ব্যাগ, মাদুর, শোপিস, ফুলদানি, ঘর সাজানোর বিভিন্ন পণ্য, ঝুড়ি, দোলনা, পাটের আকর্ষনীয় জুতোসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

এবার বানিজ্য মেলায় পাট পণ্যের মধ্যে সবেচয়ে বড় আকর্ষন হচ্ছে পাটের পলিব্যাগ, প্রধানমন্ত্রী যার নাম দিয়েছেন সোনালী ব্যাগ। যেহেতু আমরা পাটকে সোনালী আশ বলি। এখন এই পণ্যটি পুরোপুরি বাজারে না আসলেো বাজারে এই নতুন পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা আছে বলে জানা যায়।

এই সোনালী ব্যাগ পরিবেশবান্ধব এবং পুনরায় উৎপাদনে সক্ষম। যা মাটির সংমিশ্রনে ৬ মাসের মধ্যে পচনশীল হবে বলে জানা যায়। যা মাটির কোন ক্ষতি করবে না বরং মাটিতে জৈব সার হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে মেলায় দেখা যায় পাট দিয়ে তৈরি ঢেউটিন। যার নেওয়া নাম দেয়া হয়েছে জুটিন। পাটের তৈরি জুটিন অন্যান্য টিনের মত মরিচা পড়বে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। এবং এই পাটের টিন বেশি রোদের তাপে উত্তপ্ত হবে না। জুট, ফাইবার এবং গ্লাসের সমন্বয়ে তৈরি এই ঢেউটিন। তবে এই পাটের টিনে একটাই সমস্যা হচ্ছে আগুন নিয়ে।যদি কখনো আগুন লাগে তাহলে খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়বে।

এছাড়া পাট এবং প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি চেয়ার টেবিল হেলমেট, খেলনা সহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।পাট-প্লাস্টিকের তৈরি প্রতি বর্গফুট ঢেউটিনের দাম ১৯৫ টাকা এবং আর্মি হেলমেট ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাট ও প্লাস্টিকের তৈরি চেয়ার ২ হাজার ৪৭৫ টাকা, টেবিল বিক্রি ৮ হাজার ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়াও রয়েছে, পাটের তৈরি ফটোফ্রেম, সাদা পেপার, নোটবুক, র‌্যাপিং পেপার, বাটিসহ আরও পাটের তৈরি আরও বেশকিছু পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব ও ইউনিক হওয়ায় তরুণদের আগ্রহ বেশি।

বিজেএমসির স্টলে আরো দেখা যায়, পাটের তৈরি বিভিন্ন ব্যাগ ছাড়াও মানিব্যাগ, খেলনা, কার্পেট, বেড কভার, জুতা, ঝুড়ি, আসবাব ও দরজা-জানালার পর্দা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাটের তৈরি ল্যাপটপ ব্যাগ, জুতাও পাওয়া যাচ্ছে। জ‍ুটেক্সকো স্টলে গিয়ে দেখা গেছে পাটের তৈরি মানিব্যাগ, ঘরের শোভা বর্ধনকারী বিভিন্ন পণ্য।

পাটের তৈরি কম্বল, সোয়েটার, জামা, ফতুয়া, লুঙ্গি, শো-পিস, শপিং ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, পর্দাসহ নানা ধরনের বাহারি পণ্য ক্রেতাদের মন জয় করছে।

মেলায় বিজেএমসি’র গবেষণা উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমেদ খান বলেন, বাংলাদেশকে সোনালি আঁশের দেশ বলা হয়। আমাদের দেশের সোনালি আঁশ অর্থাৎ পাটের মান অন্যান্য দেশের চেয়ে উন্নত। পাট থেকে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করা যেতে পারে অন্যদিকে বিভিন্ন শৌখিন পণ্যও তৈরি করা যেতে পারে। পাটের সোনালি অতীত ফিরে পেতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। দেশবাসীকে বলবো আপানারা পাটজাত পণ্য ব্যবহার করুন দেশের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সহায়তা করুন।

তিনি আরও বলেন, পাটের তৈরি ঢেউটিন, হেলমেট, চেয়ার ও টেবিল একদিকে যেমন দীর্ঘস্থায়ী হবে তেমনি অধিক রোদে সহজে তপ্ত হবে না।

অর্থসূচক/এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ