যেভাবে ধরা পড়লেন 'সিরিয়াল রেপিস্ট' মজনু
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

যেভাবে ধরা পড়লেন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ মজনু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মজনুকে ভিকটিমের মোবাইলের সূত্র ধরে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. ক. সারোয়ার বিন কাশেম এই তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতার মজনু একজন মাদকাসক্ত ও সিরিয়াল রেপিস্ট। তিনি ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় প্রতিবন্ধী-ভিক্ষুক নারীদের ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তিনি নিজেকে দিনমজুর হিসেবে দাবি করলেও ছিনতাই ছিল তার নিয়মিত পেশা।

কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে এই দুদিন কোথায় ছিলেন মজনু? র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর মজনু ঘটনাস্থল থেকে চলে যান রাস্তার ওপারে শেওড়ার রেলস্টেশন এলাকায়। সেখানে অরুণা নামে এক নারীর কাছে মজনু কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোন সেটটি চার শ টাকায় বিক্রি করেন। এরপর মজনু ওই রাতে পাড়ি দেন নরসিংদীতে। সেখানের রেলস্টেশন এলাকায় ঘটনার পরদিন সোমবার পুরোদিন কাটিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবার চলে আসেন রাজধানীর শেওড়া রেলক্রসিং এলাকায়। এরপরই ধরা পড়েন মজনু।

কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মজনু যার কাছে তার মোবাইল ফোনটি বিক্রি করেন, সেই অরুণাকে আটক করা হয়। আটকের পর অরুণা জানান, তিনি কেনার সময় মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। মেরামতের জন্য অরুণা সেটটি খায়রুল নামে একজনের কাছে দিয়েছিলেন। পরে খায়রুলকে আটক করা হয়। অরুণা ও খায়রুলের কাছেই মজনুর শারীরিক গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে মজনুকে আটক করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, মজনুর মুখের সামনে দুটি দাঁত ভাঙা ছিল। ১২ বছর আগে ট্রেন থেকে পড়ে দাঁত দুটি ভেঙে যায়। ধর্ষণের শিকার মেয়েটির দেওয়া বিবরণের সঙ্গে অরুণা ও খায়রুলের দেওয়া মজনুর চেহারার বিবরণ মিলে যায়। এরই সূত্র ধরে মজনু আটকের জন্য র‌্যাব অভিযান শুরু করে।

প্রসঙ্গত, রোববার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোঁপে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ