ArthoSuchak
মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে যা করবেন

সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। পুরো জীবনের প্রশ্ন এখানে জড়িত থাকে। খেয়াল রাখতে হয় ক্যারিয়ার, স্বস্তি, প্রশান্তি ইত্যাদি অনেক কিছু। সম্পর্ক লুকিয়ে রাখার কোন ব্যাপার নয়। একটি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে আত্মীয়-স্বজন সবার সহযোগীতা দরকার। লুকাতে গেলেই বিপদ বাড়ে। ধীরে ধীরে এতে তৈরী হয় বিভিন্ন সমস্যা ও কষ্ট।

আবার এক তরফা সম্পর্কের আরেক নাম হচ্ছে অবহেলা। যার থেকে তৈরী হয় রাগ। তারপর সমঝোতা- অনুরাগের বিভিন্ন পালাবদলের পর একটা সময় আসে অভিমান। কিছু অভিমান অনেক কঠিন, শক্ত জমাট পাথরের মতো। জন্ম দেয় বিষন্নতার, যার পরিণাম ভয়ংকর।

তেমনি সব প্রেমের সম্পর্কেও ওঠাপড়া লেগে থাকে। জানেন তো, হৃদস্পন্দনের রেখাটা যখন আঁকাবাঁকা হয়, তখনই বলা হয় মানুষ জীবিত, নয়ত সোজা রেখা মৃত্যুর কথা বলে। তেমনই প্রেমের সম্পর্কের গ্রাফ উঁচু–নিচু যদি না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক মৃত। তাই ঝগড়া হলে মনমরা হয়ে যাবেন না। জানবেন, এটাই সত্য।

এমন সময়ও আসে যখন প্রেমিক প্রেমিকা দুজনেই বুঝতে পারেন, সম্পর্ক এবার খাদের ধারে এসে দাঁড়িয়েছে। পরস্পরের প্রতি টান থাকলেও, কোথাও যেন সমীকরণ মিলছে না। আর যে কোনও বিচ্ছেদই দুঃখের। কিন্তু চাইলে ভাঙা প্রেমও জোড়া লাগানো যায়। তাই সম্পর্কটা ভেঙে গিয়ে মাসের মাসের পরে মাস দুঃখে থাকার চেয়ে আগে ভাগে সাবধান হোন।

এমন অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব সমাধান চাইতে এবং ক্যারিয়ার বাঁচাতে আপনার করণীয় সম্পর্কে জানতে যেগুলো করণীয়ঃ

পছন্দ-অপছন্দ

আগে নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করুন সম্পর্কটাতে সত্যিই বাঁচাতে চান কি না। যদি টান থেকে থাকে অবশ্যই সম্পর্ক বাঁচান। সঙ্গীর সঙ্গে বসে কথা বলুন। খুঁটিনাটি সব বিষয়ে ঝগড়া বাঁধাবেন না। আপনার পার্টনারের এমন দু’‌একটা জিনিস বেছে নিন যা আপনি সহ্য করতে পারেন না। তাঁকে ভালভাবে বোঝান, আপনার সেই বিষয়গুলি কেন অপছন্দ। যদি দেখেন যে আপনার পার্টনার কখনওই মেনে নেবেন না। তাহলে হাল ছেড়ে দিন। শান্তি বজায় রাখার জন্য কখনও কখনও কিছু জিনিস মেনে নিতে হয় তা পুরুষ হোন বা মহিলা।

ঝগড়া নিয়ন্ত্রণ

তুমুল ঝগড়া বেঁধেছে। হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনুন। আপনার পার্টনারকে বলুন একটা বিরতির প্রয়োজন। না হলে কেউ কারওর কথা না শুনেই শুধু চিৎকার করে যাবেন। তাতে কোনও লাভ নেই। হয় পাশের ঘরে চলে যান অথবা একটু খোলা হাওয়ায় হেঁটে আসুন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৪০ মিনিট সময় লাগে মনকে শান্ত করতে। মনে রাখবেন, কথা অসম্পূর্ণ ছেড়ে দিলে হবে না। শান্ত হয়েই আলোচনায় ফিরে আসুন।

ঠিক-ভুল

কখনও কখনও নিজের ভুল স্বীকার করে নিলে তা সম্পর্কের জন্য স্বাস্থ্যকর। আপনার মন জানে আপনি ভুল। কিন্তু অহং আপনাকে তা স্বীকার করতে দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে নিজের অহং–কে দূরে সরিয়ে রাখলে তা আপনাদের দু’‌জনের জন্যই ভাল।

কষ্ট ভাগাভাগি

মনের মধ্যে কষ্ট চেপে বসে আছেন?‌ পার্টনারের সঙ্গে অভিমানের খেলা চলছে বলে কথা বলতে পারছেন না?‌ একা থাকবেন না, কোনও বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে গিয়ে সবটা বলে দিন। তাঁরা এই পরিস্থিতে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে নিজের মতামত জানাতে পারেন। অন্যের চোখ দিয়ে নিজেকে দেখলে অনেক সময় অনেক দিক স্পষ্ট হয়ে যায়। সঙ্গে আপনার কষ্টটাকে ভাগ করে নিলে আপনার মনের ওপর থেকে বোঝাও হালকা হয়ে যাবে। ‌‌‌‌‌

পারস্পরিক শ্রদ্ধা

পারস্পরিক শ্রদ্ধা কমে গেলে সম্পর্ক ভেঙে যাবেই। তাই সাবধান হোন। কথায় কথায় রেগে গিয়ে যা তা বলে দেওয়ার স্বভাব থাকলে তা বদলান। অনেক ক্ষেত্রেই সময়ের অভাবে অনেক প্রেম ভেঙে যায়। সময়ের অভাবে অভিমান জমতে দেবেন না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই এবার সঙ্গীর জন্য সময় বের করুন। সমস্ত ভুল বোঝাবুঝি মেটান।

প্রেমে সমীকরণ ফেরানোর চেষ্টা

সম্পর্কে স্পেস খুব জরুরি। সম্পর্ক নিয়ে সঙ্গীকে উদাসীন লাগলে জোর করবেন না। সময় দিন। ইচ্ছে ও টান থাকলে সে নিজেই বুঝবে। সম্পর্কে পুরনো সমীকরণ ফেরাতে প্রেমের প্রথম দিকে যা যা করতেন সেগুলো করুন। সঙ্গীকে সুন্দর ছবি, গান কবিতা পাঠান।

সম্পর্কে রসায়ন

পুরনো রসায়ন ফিরিয়ে আনতে সঙ্গীকে নিয়ে কয়েকদিন ছুটি কাটিয়ে আসুন। এতে সম্পর্ক ভাল থাকবে।

অর্থসূচক/এনএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ