বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ছেন সাকিব!
শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ছেন সাকিব!

প্রতি বছরের মতো এবছরও ক্রিকেটারদের সাথে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যাচ্ছে বিসিবি। জাতীয় দল ও পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে করা হয় এই চুক্তি। চুক্তিতে কারা থাকছেন, কারা বাদ পড়বেন তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে, আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাকিব যে থাকছেন না এই তালিকায় তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। বিসিবির নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ১২ জানুয়ারি।

গেলো বছর আইসিসি সাকিবকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভিযোগ ছিলো জুয়াড়ির প্রস্তাব সম্পর্কে আইসিসি কিংবা বিসিবিকে অবহিত করেননি বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। নিষেধাজ্ঞা দুই বছরের হলেও কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে সাকিবকে, যা মেনে চললে তার শাস্তি কমে এক বছরের হবে। সেই শাস্তি এক বছরের হলেও সাকিবের ক্রিকেট মাঠে ফিরতে লাগবে আরো ৯ মাস। আগামি অক্টোবরে সাকিবের যখন ফেরার সময় হবে ততদিনে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ বা প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকবে। এ টুর্নামেন্টে তাঁর খেলা প্রায় অনিশ্চিত। সেটি হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের ফিরতে ফিরতে ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হয়ে যেতে পারে। এ বছরের বেশির ভাগ সময়ই যেহেতু নিষিদ্ধ থাকবেন, বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাঁর থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

অপরদিকে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাপারটা ঝুলে আছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই মাশরাফির অবসর নিয়ে গুঞ্জন চলছিলো। এর মধ্যে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ব্যাপারে ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিলো। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মাশরাফি এই বিষয়ে কিছু না বলায় চুক্তিতে থাকবেন কি থাকবেন না—এটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। গত বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক। গত সাত মাসে বাংলাদেশ অবশ্য খেলেছেই তিনটি ওয়ানডে। গত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে বাংলাদেশের খুব বেশি ওয়ানডে নেই। ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজ, মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফর আর বছরের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে—এখন পর্যন্ত এই ৯টি ওয়ানডের সূচি আছে বাংলাদেশের সামনে। ৯ ওয়ানডেতেই মাশরাফি নেতৃত্ব দেবেন কি না, সেটি এখনো বলার উপায় নেই। বিশ্বকাপ থেকে শোনা যাচ্ছে তাঁর অবসরের গুঞ্জন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান গত আগস্টে তাঁকে ডেকে অবসরের ব্যাপারে জানতেও চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে মাশরাফি তখন পরিষ্কার কিছু বলেননি।

মাশরাফি যেহেতু কিছু বলেননি, তাঁকে রেখেই কেন্দ্রীয় চুক্তি সংযোজন-বিয়োজন করতে চাইছে বিসিবি। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বলছেন, ‘সাকিব যেহেতু নিষিদ্ধ, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাঁর থাকার বিষয় নেই। আর মাশরাফির থাকা না থাকা তাঁর ওপরই নির্ভর করছে।’

২০১৯ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার—মাশরাফি, সাকিব, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। ‘এ’ ক্যাটাগরির তিন ক্রিকেটার ছিলেন ইমরুল, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে চার ক্রিকেটার—মুমিনুল হক, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। এর বাইরে ‘রুকি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল ৫ ক্রিকেটারকে। আবু হায়দার, আবু জায়েদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাঈম হাসান ও খালেদ আহমেদ।

এবারের চুক্তিতে কারা থাকছেন, পুরোনোরা থাকবেন নাকি নতুন কেউ আসবে, নতুন ক্রিকেটার কে আসবেন বিসিবির এই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তা জানা যাবে ১২ জানুয়ারি। ক্রিকেটকে মিস করার সাথে সাথে সাকিব যে কেন্দ্রীয় চুক্তিও মিস করতে যাচ্ছেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। তবুও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে বিসিবির বোর্ড মিটিংয়েই।

 

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ