দেশে ৬ লাখ নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করবে সরকার
শুক্রবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

দেশে ৬ লাখ নিরাপদ পানির উৎস তৈরি করবে সরকার

বর্তমানে দেশে ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পেয়ে থাকে। সে হিসেবে দেশে মোট ১৩ কোটি ৯২ লাখ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা ভোগ করে থাকে। এখনো দেশের ১৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। তাই এই ১৩ শতাংশ মানুষকে নিরাপদ পানির সুবিধা দিতে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

আমাদের দেশের মানুষ দূরবর্তী বিভিন্ন পানির উৎস থেকে তারা নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহ করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, সারা দেশের মানুষের নিরাপদ পানি প্রাপ্তির জন্য উৎস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন ধরনের ৫ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৯টি নলকূপ, সাব-মার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। নতুন এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে অগভীর নলকূপ ৯০ হাজার ৬৩৬টি, গভীর নলকূপ ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৭টি, সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপ ২ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি, সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপ ১ লাখ ৭০ হাজার ২২২টি, রিঙওয়েল ৩ হাজার ৩৭৯টি, বৃষ্টির পানি হার্ভেস্টিং ইউনিট ৩ হাজার ২১০টি, রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম ৪৯১টি, আর্সেনিক আয়রন রিমোভাল প্লান্ট ২৯ হাজার ৫৭০টি, কমিউনিটি-ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট ৮ হাজার ৮৩৭টি স্থাপন করা হবে।

দেশে বর্তমানে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬০টি নলকূপ চালু রয়েছে। জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা ১৯৯৮ অনুযায়ী পানি সরবরাহ কভারেজের মানদণ্ড ঠিক করা হয় প্রতি ৫০ জনের জন্য একটি পানির উৎস। আর এই পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে নলকূপের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নলকূপের জন্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৫ থেকে ৫০ জনে কমিয়ে আনা লক্ষ্য। তাই নীতিমালা অনুযায়ী গ্রামাঞ্চলে নলকূপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮৭ থেকে ৫০ জনে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। কিন্তু বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে নিরাপদ পানি সরবরাহ কভারেজ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্যতা দিন দিন কমে আসছে। আর্সেনিক ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষণ করছে।

প্রস্তাবনায় ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, সাব-মার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপ ও গভীর নলকূপ স্থাপনের চেয়ে রুরাল পাইপড পানি সরবরাহ স্কিমেই ব্যয় বেশি। সাব-মার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৯ টাকা, আর সাব-মার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপে এক লাখ টাকা। যেখানে গ্রামীণ পাইপড পানি সরবরাহে প্রতি স্কিমে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট স্থাপনে প্রতিটিতে খরচ ৬ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, প্রকল্প হতে সেকেন্ডারি স্কুলের জন্য প্রস্তাবিত সোলার হ্যান্ড পাম্প টিউবওয়েল, মাল্টিপল হ্যান্ডপাম্প, হাইড্রো-জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং পার্বত্য এলাকা ব্যতীত দেশের অন্যান্য এলাকার জন্য প্রস্তাবিত রিঙওয়েলগুলো বাদ দিতে হবে। যেসব এলাকায় ৫০ জনের জন্য একটি পানির উৎস অর্জিত হয়েছে বা হবে সেসব এলাকা বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পে আপদকালীন হিসেবে হোক ৫ কোটি টাকার খাতটি বাদ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ