মূলধন ঘাটতিতে ১২ ব্যাংক
রবিবার, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মূলধন ঘাটতিতে ১২ ব্যাংক

ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে দেশের ১২টি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের (২০১৯) সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ১৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ হাজার ৫১১ কোটি টাকা বেশি।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি সে পরিমাণ মূলধন রাখতে হচ্ছে। কোনো ব্যাংক এ পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে মূলধন ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের প্রভাবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাস শেষে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে ১২টি ব্যাংক। এই সময়ে এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত খাতের ৭টি, বেসরকারি খাতের ৪টি ও বিদেশি একটি ব্যাংক রয়েছে। একই বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

মূলধন ঘাটতিতে থাকা সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। আলোচ্য সমেয় ব্যাংকটির মোট মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৭৮৮ কোটি টাকা। এছাড়াও বেসিক ব্যাংক ৫৬২ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৯৩৩ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ৫৪৬ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ২ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার জোগান দিতে হয়। জনগণের করের টাকায় বিভিন্ন সময় মূলধন ঘাটতিতে পড়া ব্যাংকগুলোতে অর্থ জোগান দেয় সরকার। তবে করের টাকায় মূলধন জোগানের বরাবরই বিরোধিতা করে থাকেন অর্থনীতিবিদরা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংক লিমিটেডের মূলধন ঘাটতি ৬৫২ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৬৯১ কোটি টাকা, কমিউনিটি ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি আর নানা অব্যবস্থাপনায় ব্যাংক খাতে চলছে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়ে পড়ছে। এসব ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। বাড়তি অর্থ জোগাতে হাত দিতে হচ্ছে মূলধনে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সংকট।

বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। ব্যাংকটির মোট মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৫৯ কোটি টাকা। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৭০১ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের জোগান দেয়া অর্থ ও মুনাফার একটি অংশ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। কোনো ব্যাংক মূলধনে ঘাটতি রেখে তার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ