বছরের শুরুতে দাম বেড়েছে তেল, চিনি ও পেঁয়াজের
বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বছরের শুরুতে দাম বেড়েছে তেল, চিনি ও পেঁয়াজের

শুরু হয়েছে নতুন বছর। তাই সবাই যেন আপনাকে একটু ভালোভাবেই আপ্যায়নের চেষ্টা করছে। যেখানেই যাবেন ভালোবাসাটা একটু বেশি পাবেন। যারা এর মুখোমুখি হয়েছেন তারা তো অলরেডি সুখবরও পেয়েছেন। আর যারা সুখবরটি পাননি তারা খুব শীঘ্রই হয়তো পাবেন।

যখনই বাজারে যাবেন দেখবেন নতুন বছরের আপ্যায়ন কাকে বলে। পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দেখবেন গত সপ্তাহের থেকে দেশি পেঁয়াজ প্রায় ত্রিশ টাকা বেড়েছে কেজিতে। আমদানি পেঁয়াজের দাম হালকা কিছুটা বেড়েছে। তেল কিনতে যাবেন! যদি আপনি একমাস আগে সয়াবিন তেল কিনে থাকেন তাহলে আপনাকে কেজিপ্রতি গুনতে হবে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি। আর যদি সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে যান তাহলে আপনাকে এখানে ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দামে কিনতে হবে সয়াবিন তেল। তবে এখানেই শেষ নয় যদি কিনতে চান চিনি। তবে আপনাকে গুনতে হবে গত সপ্তাহের থেকে ৫ থেকে ৭ টাকা বেশি।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

শেওড়াপাড়া বাজারে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী খলিল আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, পড়েছি মোগলের হাতে, কিছুই করার নেই ভাই। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে বাড়িওয়ালা ডেকে বলে আগামী মাস থেকে নাকি ১ হাজার টাকা বেশি ভাড়া দিতে হবে। এদিকে বাজারে এসে দেখি পেঁয়াজ, তেল ও চিনি সবকিছুর দামই বেড়েছে। এত টাকা কই পাব বলেন।

সকালে শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে খুচরা পর্যায়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে আমদানি করা চায়না পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে চিনির দাম গত সপ্তাহের থেকে ৭ থেকে ৮ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যে চিনি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়।

এদিকে সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে লিটারে ৮ টাকা বেড়েছে। সঙ্গে প্যাকেটজাত চিনির দাম বাড়ানো হয় কেজিপ্রতি ৭ টাকা। এর আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৮ টাকা ও পাম সুপার তেলের দাম ১৬ টাকার মতো বেড়েছে। বাজেটের পর এখন পর্যন্ত খোলা চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১২ টাকা।

টিসিবির হিসাবে, বর্তমানে গত বছরের তুলনায় ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি। আর কমেছে সাতটি পণ্যের দাম। যেসব পণ্যের দাম কমেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, চাল, রুই মাছ, ইলিশ মাছ, বয়লার মুরগি, লবণ, ডিম ও লবঙ্গের দাম। চালের দাম মানভেদে কমেছে ৪ থেকে ১৮ শতাংশ, রুই মাছ ১১, ইলিশ মাছ ৬, ব্রয়লার মুরগির দাম ১১ শতাংশ, লবণের দাম ৫, ডিমের দাম ৩ ও লবঙ্গের দাম ৩০ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া জরুরি পণ্যের মধ্যে যেগুলো দাম বেড়েছে তার মধ্যে রয়েছে- খোলা আটা, ময়দা, খোলা সয়াবিন তেল, পাম তেল, মসুর ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, হলুদ, আদা, জিরা, গুঁড়ো দুধ, গরুর মাংস, দেশি মুরগি, গরম মসলা, দারুচিনি ও এলাচি।

এদিকে সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, টমেটো ছাড়া সব সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার নিচে। বাজারে প্রতিকেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। বরবটি, ঢেঁড়স আর টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। তবে কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

এছাড়া বাজারে ছোট-মাঝারি মানের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, বড় ভালো মানের ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০টাকা দরে। বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা, শালগম ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া (ছোট) ৫০ টাকা। তবে লাউয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহের জেলাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বাজারে ভালো মানের শিম ৫৫-৬০টাকা এবং নিন্মমানের সিম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুলা ২০-২৫ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু ২৫-২৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কেজি প্রতি নদীর আইড় ৮০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, কোরাল ৪৮০ টাকা, কাতল ২৭০ টাকা, রুই ২৮০, বেলে ৫০০ টাকা, পাবদা ৫৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি সাইজ ভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা, পুঁটি ২৮০ টাকা, দেশি টেংরা ৪০০ টাকা, মেনি ৪০০ টাকা, নওলা ৩৮০ টাকা, বড় শিং ৪৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, টাকি মাছ ২৮০ টাকা এবং এক কেজির শোল ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় বয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি কর্ক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা ডজন এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা হালি।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ