গাছে বেঁধে নির্যাতন: অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন সেই গৃহবধূ
রবিবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গাছে বেঁধে নির্যাতন: অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করলেন সেই গৃহবধূ

ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন সাড়ে ১০টা। ইউপি সদস্য আবদুল মজিদ তার লোকজন নিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনেন গৃহবধূ আক্তারুন নেসাকে। তাঁকে গাছে বেঁধে চালান নির্যাতন। এর পরের বড় ঘটনাটি হলো সেই গৃহবধূ মারা গেছেন। অপমান সইতে না পেরে বিষ পান করে বেছে নিয়েছেন আত্মহননের পথ। ধারাবাহিক এসব ঘটনা ঘটে রাজশাহীর বাগমারায়। এর আগে গতকাল বুধবার (১ জানুয়ারি) রাতে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে বাগমারা থানায় মামলা হয়। আর আত্মহননের ঘটনা ঘটে তারও আগে গতকাল বুধবার সকালে। ঘটনার শিকার আক্তারুন নেসা স্বামী পরিত্যাক্তা ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাগমারা উপজেলার বড় বিহানালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং বাগান্না গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মজিদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ ছিল একই গ্রামের গৃহবধূ আক্তারুন নেসার। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্ষেতের ফসল নষ্টের অভিযোগ এনে আক্তারুন নেসাকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান আবদুল মজিদ এবং তার সহযোগীরা। তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালান তারা। দুই ঘণ্টা ধরে চলে ওই নির্যাতন।

খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। ঘটনানাটি জানাজানি হলে আক্তারুন নেসা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অপমান সইতে না পেরে পরের দিন বুধবার সকাল ১০টার দিকে গ্রামের এক দোকানে যান। সেখান থেকে কীটনাশক কিনে তা পান করেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে  বাগমারা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন। সেখানে দুপুরে মারা যান তিনি।

আক্তারুন নেসার ভাই সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, তার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়। ক্ষোভে অভিমানে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচণা এবং নির্যাতনের অভিযোগে ইউপি সদস্য আবদুল মজিদের নাম উল্লেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে মজিদ এবং তার সহযোগীরা পলাতক। তাদেরকে গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে পুলিশের কয়েকটি টিম।

ওসি আরো বলেন, খবর পেয়ে আক্তারুন নেসার মরদেহ রাজশাহী মেডিক‌্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্তের পর তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ