পুঁজিবাজারে কর হার কমানোর আশ্বাস, বিএসইসিকে সতর্কবাণী
শনিবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
'ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বড় সমস্যা- গুজব'

পুঁজিবাজারে কর হার কমানোর আশ্বাস, বিএসইসিকে সতর্কবাণী

এক্সচেঞ্জসহ সবার দাবি ছিল যে, আমরা কিছু ট্যাক্স কেটে নেই। অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স কেটে নেয়া হয়। লেনদেনের ক্ষেত্রে সেই রেটটা আমরা কমাতে পারি কি না বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

আজ বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের বলছি সেটা বিবেচনা করবো। তাদের আরো দাবি ছিল এক্সসেজ টু ব্যাংকিং ফাইন্যান্স। অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো ক্লাইন্ট ব্যাংকে গিয়ে টাকা বড় করতে পারে, তেমনিভাবে পুঁজিবাজারে যারা ব্যবসা করে তারাও সেই সুযোগটা যেন পায়। এই মূহুর্তে দেশের কারো জন্যই রেস্ট্রিকশন নাই যে ব্যাংকে যেতে পারবে না, আমরা বলছি ব্যাংক আইনে অন্যরা যেভাবে লোন পায়, সুযোগ সুবিধা পায়, শেয়ারবাজারে যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্যও সেই সুযোগ-সুবিধা থাকবে। তবে সিকিউরিটি দিতে হবে।

তিনি বলেন, গুজবের (রিউমার) কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। গুজব বন্ধ করার জন্য প্রচলিত আইন শক্তভাবে পরিপালন করা হবে। পুঁজিবাজারের ঘুরে দাড়ানোর বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে গুজব। বাজার সম্পর্কে আজকে আমরা আলোচনা করেছি। কিভাবে বাজাকে আমরা আরো গতিশীল করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ডিএসই কিছু প্রস্তাব করেছে। এরমধ্যে তারা জানিয়েছে, সুশাসন (কমপ্লাইন্স) একটু দুর্বল, এটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর গুজবের মাধ্যমে ফাঁয়দা হাসিলের রাস্তা বন্ধ করার দাবিটিও আমরা বাস্তবায়ন করবো।

তিনি বলেন, আরেকটা রিউমার হলো টাকার ডিভ্যালুয়েশন, আমরা টাকার ডিভ্যালুয়েশন করবো না, টাকার ডিভ্যালুয়েশন করার কোনো দরকার নাই। আমাদের রেমিটেন্স খাত ডিভ্যালুয়েশন করার কথা বলা হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে রেমিটেন্স খাতে আমাদের গ্রোথ ৪০ শতাংশ। একটা মাসে একটা আইটেমে ৪০ শতাংশ গ্রোথ বাংলাদেশের ইতিহাস। এই রেকর্ড আর কেউ ব্রেক করতে পারবে না। এটা প্রমাণ স্বরূপ আনলাম এই কারণে এখানে আমরা টাকার ডিভ্যালুয়েশন করি নাই। শুধু এই খাতকে ২ শতাংশ ইনসেনটিভ দিয়েছি। যার কারণে আমরা এই সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। সুতরাং কোনো খাতেই টাকার ডিভ্যালুয়েশন করার সম্ভাবনা নাই।

তিনি আরও বলেন, বাজারের জন্য আরো ভালো দিক হলো তারা অতীতে টাকা লোন নিয়ে সরকারকে সেটা শোধ দিয়েছে। সুতারাং আমরা মনে করি তাদের জন্য আরো সুযোগ ভালো। এজন্য আমরা বলছি সেটাও থাকবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, সরকার পুঁজিবাজারের সব বিষয় নিয়ে অবহিত আছেন। এবং পুঁজিবাজারের ভালোর জন্য সরকার ভাবছেন। এবং অর্থমন্ত্রী বিএসইসিকে বলেছেন কোম্পানির অডিট রিপোর্টের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল অডিট করাতে হবে। এবং এক্সচেঞ্জে ও কমিশনে উভয় যায়গায় সুশাসন বজায় রাখতে হবে। যাতে বাজারেও সুশাসন তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগের সিনিয়র সচিব আশাদুল ইসলাম, বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনসহ কমিশনারগন ও ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ