শীতের ফলের পুষ্টিকথা (ভিডিওসহ)
মঙ্গলবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

শীতের ফলের পুষ্টিকথা (ভিডিওসহ)

গ্রীষ্মকাল তার রসালো ফলের জন্য বেশি সমাদৃত। কিন্তু শীতকালই বা কম যায় কীসে? এই ঋতুতেও পাওয়া যায় অনেক মজার মজার ফল। তার মধ্যে নারকেল, সফেদা, আতা, টিপা ফল ইত্যাদি অন্যতম। আর তাই সুযোগমতো ফলগুলো খেতে ভুলবেন না। ফলগুলো দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা ফাইটো নিউট্রিয়েন্টে ভরপুর।

এছাড়া শীতে কিছু ফল আপনাকে সজীবতা ও সুস্থতা দেবে। শরীরে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি মেটাতে ও ভিটামিন ‘সি’র জোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে ফল খেতে পারেন। জেনে নিন এ মৌসুমের দারুণ চারটি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে:

নারকেল: এটির নিজস্ব মিষ্টতা আছে। নারকেল অথবা নারকেলের দুধ থেকে আমরা যে উপাদান পেয়ে থাকি সেটি হলো এমসিটি। যামানুষের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ভালো রাখে। এছাড়া নারকেলে প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকে যেটি আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

 

ডাব: আমরা যারা কোমল পানীয় খেতে অভ্যস্ত তারা এ জাতীয় পানি না খেয়ে ডাবের পানি খেলে যেমন শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা মেটে সে সঙ্গে লবনের ঘাটতিও পূরণ করে। এমন অনেক নির্দিষ্ট রোগ আছে যা হলে শরীর থেকে লবন বের হয়ে যায়। যেমন- ডায়রিয়া ও কিডনি রোগ। এক্ষেত্রে ডাবের পানি ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। কারণ ডাবের পানিতে একই সাথে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম দুটো উপাদনই থাকে। ডাবের পানির আরেকটি বিশেষ গুণ হচ্ছে ডাবের পানি খেলে রক্তের মধ্যে যে বর্জ্য তৈরি হয় সেটা পরিশোধন করে।

টিপা ফল: এ ফল আমাদের দেশের একটি ফল যেটিকে বিদেশি ভাষায় ইন্ডিয়ান পাম্প বলা হয়। এটি যখন শক্ত থাকে তখন তিতা স্বাদের হয়। এছাড়া ধীরে ধীরে হাতের চাপে নরম করে খেলে ফলটি মিষ্টি লাগে। তাই ফলটিকে আঞ্চলিক ভাষায় টিপা ফল বলা হয়।

চালতা: ফলটির গঠনের কারণে অনেকে খেতে চায় না। তবে বিশেষ গঠনের কারণে এর ভিতরে পোকা হতে পারে না এবং খুব সহজে পঁচে যায় না। গঠনের কারণে এটি জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় না। চালতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিং এবং ভিটামিন ডি থাকে। জিং আমাদের দেহের অন্তত প্রয়োজনীয় উপাদান। জিং আমাদের শরীরের তিন শতাধিক এনজাইম আছে যাদের শক্রিয় করতে সাহায্য করে। যারা কাঁচা চালতা খেতে পারবেন তারা সরাসরি ভিটামিন সি ও জিং পেয়ে যাবেন। যদি আমরা রান্না করে খাই তবে কিছু পরিমাণে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে গেলেও জিং প্রচুর পরিমাণে থকে। জিং এর জন্য কাঁচা চালতা অন্তত প্রয়োজনীয়। চালতার আরেকটি গুণ এটিতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে, যার কারণে চালতা হজম হয় না। তাই চালতা খেলে ওজন বাড়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

লেখক: মাহফুজা আফরোজ সাথী, প্রধান পুষ্টিবিদ, ইমপেরিয়াল হসপিটাল লিমিটেড, চট্টগ্রাম।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ