ArthoSuchak
মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

শেষ সময়ের প্রস্তুতি চলছে বাণিজ্য মেলায়, রাত পেরোলেই উদ্বোধন

রাত পেরোলেই উদ্বোধন হবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০। মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে মেলার আগের দিন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

আজ মঙ্গলবার বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় বড় ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো অবকাঠামো নির্মাণ হতো এখনো শেষ হয়নি প্রস্তুতি। মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে আজকের মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।

এদিকে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সেসময় তিনি এ বারের বাণিজ্য মেলার প্রবেশ টিকিটের মূল্য বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার ঘোষণা দেন।

প্রতিবারের মতো এবারও বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশের মাঠে।

বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলার মূল ফটকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি হচ্ছে মূল ফটক। মূল ফটকের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার বলেন, আমাদের কাজ মোটামুটি শেষ।এখন শুধু একটু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আর আশপাশটা গোছানো বাকি।

মেলার ভেতরে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা যায় কাজ প্রায় শেষের দিকে। বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন উক্তি দিয়ে এবং তার জীবনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরে সাজানো হয়েছে স্টলটি। বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী বলেন, আমাদের কাজ শেষ। এখন শুধু সাজানো বাকি। আজকের মধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ হবে।

মেলা প্রাঙ্গণে হাতিলের প্যাভিলিয়নেও দেখা যায় শেষ সময়ের প্রস্তুতি। কেউ রং করছেন, কেউ ছোটখাটো কাজগুলো শেষ করছেন। আর কেউ বিভিন্ন স্টিকার লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছেন। এখানে দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি জানান, আমাদের মোটামুটি কাজ শেষ শুধু ফার্নিচারগুলো নিয়ে এসে সাজানোর বাকি।

এদিকে ইসলামী ব্যাংকের প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে ভিন্ন সাজে। প্যাভিলিয়নে তুলে ধরা হয়েছে গ্রামবাংলায় চিত্র এবং দেশের উন্নয়নের চিত্র। তাদের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানালেন নিয়োজিত কেয়ারটেকার।

এদিকে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্টল সাজিয়ে প্রস্তুত হয়ে গেছে। উদ্বোধনের জন্য পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

তবে ছোট ছোট স্টলগুলো অনেকেই এখনো এসে পৌঁছান নাই। তবে মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের তেমন বেশি কাজ নেই তাই তারা দেরি করছে আসতে। তবে আজকের মধ্যেই তারাও তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

অনেক স্টলে দেখা যায় তারা তাদের পণ্যগুলো সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিভাবে দর্শনার্থীদের পণ্যগুলো বেশি আকর্ষণ করবে সে আলোকেই তারা তাদের পণ্য গুলো সাজাচ্ছেন।

আয়োজকরা জানান, আগামী ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। বাংলাদেশ ছাড়াও ২০টি দেশ এবারের বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে।

মেলায় এবার বিভিন্ন শ্রেণির প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়নসহ মোট সংখ্যা ৪৫০টি। বরাবরের মতো এবারও রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এছাড়া ডিজিটাল এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার, ব্যাংক বুথ, ফুলের বাগান, শিশু পার্ক, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, মা ও শিশু কেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, ডাকঘর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্ষ, বিশ্রাম স্থান, মসজিদ ও ১২টি স্থানে শৌচাগার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ইত্যাদি থাকছে।

ইপিবি জানায়, এবার বাণিজ্য মেলায় ২৩টি দেশের ৩০টির অধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। অংশ নেওয়া দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনেই, চীন, ইউএই (দুবাই), ভারত, জার্মান, হংকং, ইরান, ইতালি, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও যুক্তরাজ্য। মেলার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং পর্যাপ্ত ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাও থাকবে বলে জানিয়েছে ইপিবি।

জানা যায়, এবার আকর্ষণীয় প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশ নেবে দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ালটন, মিনিস্টার, আকতার ফার্নিচার, হাতিল, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, কিয়াম মেটাল, বিআরবি, পারটেক্স গ্রুপ, কোকোলা, টয়োটা, সনি র্যাং গসসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও সরকারি প্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে। মেলায় প্রবেশের টিকিট মূল্য ৪০ টাকা। অবশ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তা ২০ টাকা। এবারও অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক আবদুর রউফ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে। গতবারও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করেছিলাম। এবারও আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। আশা করি সবার অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ