নাগালে আসেনি পেঁয়াজের দাম, কমেছে সবজির
সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নাগালে আসেনি পেঁয়াজের দাম, কমেছে সবজির

প্রতি সপ্তাহে একটু একটু করে দাম কমছে পেঁয়াজের। তবে কতটা কমছে সেটাই দেখার বিষয়। আমাদের দেশে সাধারণত পেঁয়াজের দাম থাকে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সেই পেঁয়াজ এখনো ৪০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। তাই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তিতে নেই সাধারণ মানুষ। তবে কিছুটা কম সবজির দাম।

আজ রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আজ আমদানি করা ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা ও বড় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং বড় পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। এদিকে দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে চাহিদা হারিয়েছে চীন ও মিশরের বড় সাইজের পেঁয়াজ।

মিরপুর-২ নম্বর বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, পেঁয়াজের দাম ওঠানামার মধ্যে আছে। বাজারে এখন মৌসুমের নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ ভালো আছে। এতে বাজারে দাম কমছে। তাছাড়া টিসিবি কেজিতে ১০ টাকা কমিয়ে বড় পেঁয়াজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করছে। এ কারণে আগের সপ্তাহে বাড়তে থাকা দর উল্টো কমে গেছে। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমে আসবে বলে জানান তিনি।

দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজ বলেন, এখন বাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপক পরিমাণ দেশি পেঁয়াজ আসছে। সরবরাহ বাড়তে থাকলে দামও কমতে থাকবে।

রাজধানীর বাজারে শীতের শাকসবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বেড়েছে। এতে আগের সপ্তাহের মতো দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন শিম নতুন গোল আলু, শালগম ও কাঁচা টমেটোর কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। তবে দেশি পাকা টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানি টমেটো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মুলা ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে বরবটির কেজি এখনও ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। বেগুন ও করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শিম ৪০, মুলা ২০-২৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কায়তা ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা। চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা ও দেশি আদা ১২০ টাকা কেজি। চায়না রসুন ১৫০ ও দেশি রসুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া (ছোট) ৫০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন মৌসুমী শাক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২৫ টাকা আঁটি দরে।

বাজারে আসা সবজি ক্রেতা রাসেল বলেন, সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে আশানুরূপ কমে নাই। এই সময়ে শাক সবজির দাম যতটা কমা দরকার ততটা কমে নাই। প্রতিবছরের তুলনায় এবছর এখনও বাড়তি মনে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে আসেনি।

দাম কমার বিষয়ে মিরপুর -২ নম্বর এর সবজি ব্যবসায়ী সোলাইমান বলেন, এখন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও কমেছে। তবে সবজির দর নির্ভর করে মাল সরবরাহের ওপর, মাল কম হলে দাম বাড়ে। এখন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কেজি প্রতি নদীর আইড় ৮০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, কোরাল ৪৮০ টাকা, কাতল ২৭০ টাকা, রুই ২৮০, বেলে ৫০০ টাকা, পাবদা ৫৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি সাইজ ভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা, পুঁটি ২৮০ টাকা, দেশি টেংরা ৪০০ টাকা, মেনি ৪০০ টাকা, নওলা ৩৮০ টাকা, বড় শিং ৪৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, টাকি মাছ ২৮০ টাকা এবং এক কেজির শোল সাইজ ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে, দেশি মুরগি ৪৫০ টাকা, ব্রয়লার ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ডজন এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা হালি।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ