ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার অবস্থান প্রকাশ করবে অস্ট্রেলীয় ক্রেতারা

গার্মেন্টস কর্মপরিবেশ

গার্মেন্টস কর্মপরিবেশবাংলাদেশের পোশাক খাতে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন,নিরাপদ ভবন, অগ্নি নিরাপত্তা্র বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকটিই  ইতোমধ্যে একটি জোট গঠন করেছে। বাংলাদেশ ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি একর্ড নামের জোটটি আলাদা আলাদা ভাবে সকল ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশে তাদের পোশাক তৈরির ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর অবস্থান প্রকাশের কথা বলেছে। আর তারই প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশি পোশাক সরবরাহকারীদের কারখানাগুলোর অবস্থান প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে । আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের পোশাক কারখানা, শ্রমিক নিরাপত্তা, তাদের মৌলিক অধিকারসহ এর সাথে সম্পৃক্ত বিষয় সম্পুর্ণভাবে তুলে ধরবে অস্ট্রেলিয়ান ক্রেতা প্রতিষ্ঠান টার্গেট অস্ট্রেলিয়া, কেমার্ট এবং প্যাসিফিক ব্র্যান্ডস।

এদিএকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশের পোশাকখাতের বর্তমান সময়কে খুবই স্পর্শকাতর পর্ব হিসেবেই দেখছে।

দ্যা সিডনি মরনিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে অক্সফাম এর প্রধান নির্বাহী হেলেন জোকির বরাত দিয়ে বলা হয়, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ ছাড়া কোম্পানিগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই । আর জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে কেমার্টের অনুসরণ করার আহ্ববান জানান।

তিনি বলেন, এই আবস্থান প্রকাশ ফলে এর নিরাপত্তা বিষয়টি ভালোবাবে ক্ষতিয়ে দেখা যাবে। আবার অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য প্রথম সারির খুচরা বিক্রেতাদের বাংলাদেশের গামেন্ট কারখানা থেকে পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করবে।

প্যাসিফিকের স্বত্ত্বাধিকারি বার্লি এবং জকি বাংলাদেশে তৈরি গার্মেন্ট ভবনের নিরাপত্তা ও অগ্নিকান্ডে নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক এই ঘোষণায় একমত পোষণ করেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৪ শে এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বসে কমপক্ষে ১১২৭ জন গার্মেন্টস কর্মী নিহত হয়। এর পর স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বের সকল খুচরা বিক্রেতা এবং উৎপাদনকারীদের একটি সাধারণ চুক্তিতে সই করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

এই চুক্তি অনুসারে, কোম্পানিগুলো যে কারখানা থেকে পোশাক ক্রয় করবে সেই কারখানার নিরাপত্তা তদন্ত তাদেরকে নিজ উদ্যোগে করতে হবে। তদন্ত পরবর্তী রিপোর্ট জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং ঐ কারখানার প্রয়োজনীয় মেরামতের খরচ তাদেরকে বহন করতে হবে।

মঙ্গলবারে টার্গেট অস্ট্রেলিয়া ৪৫টি সরবরাহকারী কারখানার অবস্থান প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ড মাচিন বলেন, টার্গেচ কোম্পানি বিশ্বব্যাপী তাদের কোম্পানির শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ে লক্ষ্য রেখে আসছে। সুতরাং যে কারখানা থেকে আমরা কাপড় ক্রয় করবো সেই কারখানার কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়ভারও আমাদের নিতে হবে।

ফায়ারফক্স মিডিয়য়ার এক তদন্তে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বড় বড় ব্র্যন্ডের জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক সরবরাহ করে।কিন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করে।

অথচ ওই কোম্পানিগুলোর শ্লোগানে থাকে নিরাপদভাবে তৈরি পোশাক সরবরাহে প্রতিশ্রুতি।

গত ৬ মে আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট এবং আরএমআইটি বাংলাদেশি এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেও খুচরা বিক্রেতাদের উপর তাদের সরবরাহকারীদের নাম প্রকাশের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। তাছাড়া একটি কোম্পানিকে তার সরবরাহকারী কারখানাগুলোর যাবতীয় দায়ভার নিতে বাধ্য করতে চাপ প্রয়োগের উপরেও তাগিদ দেওয়া হয়।

তবে এবার অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলোর উদ্যোগ আসলেই বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য ইতিবাচক হবে বলে সিডনি মরনিং হেরাল্ডের ওই প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।