পুড়ে কয়লা ছেলের মরদেহ, ব্রেসলেট দেখে চিনলেন বাবা
শুক্রবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পুড়ে কয়লা ছেলের মরদেহ, ব্রেসলেট দেখে চিনলেন বাবা

কেরানীগঞ্জে কারখানায় লাগা আগুনে ঘটনাস্থলে নিহত একজনের মরদেহ গতকাল থেকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পড়া ছিল। অনেকেই মর্গে মরদেহের মুখ দেখলেও কেউ চিনতে পারছিলেন না। অবশেষে বৃহস্পতিবার তার বাবা গুলজার হোসেন তাকে চিনতে পেরেছেন। তবে মুখ দেখে নয়, ছেলের বাম হাতের ব্রেসলেটটি দেখে মরদেহ শনাক্ত করেছেন তিনি।

নিহতের নাম মাহবুব (২৫), বাড়ি রংপুরের পীরগাছায়। গত ৫ বছর ধরে তিনি কেরানীগঞ্জের প্রাইম প্লেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে মেশিন অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় আগুনে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি বাকিদের অবস্থাও খারাপ।

ছেলের মরদেহ শনাক্ত করে দিশেহারা বাবা গুলজার হোসেন বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে মাহবুবকে ফোন দিচ্ছি, রিং বাজে কিন্তু কেউ ধরে না। এরপর রাতে ফোন বন্ধ পেলাম। রাতেই আমার এক ভাতিজা ফোন দিয়ে বলল, ছেলে যে কারখানায় কাজ করত সেখানে আগুন লেগেছে। সেই সংবাদ শুনে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলে আসি। ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি ৩১ জনের নামের তালিকা দেখে তাদের কাছে যাই। কিন্তু আমার ছেলে ছিল না।’

‘এরপর সকালে আমি জানতে পারি মর্গে একটি লাশ রয়েছে। মর্গে গিয়ে দেখতে পাই একটি পোড়া লাশ, পুরোটাই পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। এর বাম হাতে একটা ব্রেসলেট ছিল। ব্রেসলেটটি আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বাম হাতে পড়তো।’

মাহবুব গত বছরের আগস্টে কোরবানি ঈদের সময় সর্বশেষ বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাবা গুলজার হোসেন ঢাকার মিরপুরে থাকেন। তিনি একজন রিকশাচালক। গত ১৫ দিন আগে সর্বশেষ বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন মাহবুব। তিনদিন আগে মাহবুব তার বাবাকে ফোন দিয়ে এক কেজি মধু কিনতে বলেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা গুলজার বলেন, ছেলে ফোন দিয়ে বলল যে তার একটি ওষুধ বানাতে হবে। সেটার জন্য মধু দরকার। আমি মধু কিনে বাসায় রেখে দিয়েছিলাম। আগামীকাল (শুক্রবার) আমার মিরপুরের বাসায় আসার কথা ছিল তার। এখনতো ছেলে আর কোনোদিন ফিরবে না।

দুই ভাই এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন মাহবুব। বোনটি এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে তার ছোট ভাই।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে ১০ জন ভর্তি রয়েছেন নবনির্মিতি শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে, বাকিরা ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ