তথ্য গোপন করায় কমার্স ব্যাংককে জরিমানা
সোমবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

তথ্য গোপন করায় কমার্স ব্যাংককে জরিমানা

সঠিক তথ্য সরবরাহ না করায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংককে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তথ্যের অভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকা থেকে বাদ পড়েন একজন ঋণ খেলাপি। পরবর্তীতে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনিত হন ওই প্রবাসী। রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার পর ফিরিয়ে নিলেও এই কাজের মাধ্যমে মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ কারণে কমার্স ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে।

মো. শাহজাহান বাবলু (ছবি: সংগৃহীত)

সূত্র জানায়, প্রথমে ব্যাংকটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ২ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তারপরও এই ২ লাখ টাকা জরিমানা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছে ব্যাংকটি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই জরিমানা মওকুফের কোনো সম্ভাবনা নেই।

সূত্র আরও জানায়, জরিমানা মওকুফের জন্য আবেদন করার এখতিয়ার রয়েছে কমার্স ব্যাংকের। তবে এটি বিবেচনার করার অধিকার শুধু পরিচালনা পর্ষদের হাতে। তাই তার বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাঠানো হবে। বোর্ড মওকুফ না করলে তাকে আবার চিঠি দিয়ে জরিমানা প্রদানে নির্দেশ দেওয়া হবে। স্বেচ্ছায় জরিমানা না দিলে তার অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ, দেশের অন্যতম বড় ঋণ খেলাপি মো. শাহজাহান বাবলু। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শীর্ষ ঋণ খেলাপি। তার কাছে ব্যাংকের পাওনা ১৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু বৈধ পথে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাঠানোয় গত ৭ অক্টোবর (সোমবার) ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের মধ্যে একজন মো. শাহজাহান বাবলু।

ঋণ খেলাপি মো. শাহজাহান বাবলুকে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ফেরত নেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলদেশ ব্যাংক। শাহজাহান বাবলুকে দেওয়া ক্রেস্ট, সনদ ও স্মারকমুদ্রা অনতিবিলম্বে ফেরত নেওয়ার জন্য জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শাহাজাহান বাবলুর নামে ঋণখেলাপির তথ্য উদঘাটিত হওয়ায় তার পদক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শাহজাহান বাবলু কুমিল্লা ভিত্তিক ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘এসবি গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে মাটির তৈরি টেরাকোটা টাইলস রপ্তানি করেন। ফলে সেই রপ্তানির বিপরীতে ২০০ কোটি টাকা বিদেশে আটকে যায়। যদিও ওই রপ্তানি বিল পরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের দিলকুশা শাখা ১৯০ কোটি টাকা দিয়ে কিনে নেয়।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ