খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পেছাল
মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পেছাল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত তথ্যের বিষয়ে আদালতের কাছে সময় চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ সময় আপিল বিভাগ কোনও ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ওই দিনই খালেদা জিয়ার জামিনের আপিল শুনানি করা হবে বলেও আপিল বিভাগ আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে আজ সকালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, বিএসএমএমইউর ভিসি জানিয়েছেন, কিছু টেস্ট হয়েছে, কিছু বাকি আছে। তাই প্রতিবেদন দিতে সময় দরকার। এ জন্য দুই সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। এরপর আদালত কোনোপ্রকার ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে প্রতিবেদন আছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কীসের প্রতিবেদন, ওটা ড্যাবের প্রতিবেদন। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএসএমএমইউর।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন।

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন আগামী রোববার বা সোমবার (৮ বা ৯ ডিসেম্বর) দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত। এর পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে বিচারকরা এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন।

এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এ সময় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিওন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর হেলাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ।

পরে খুরশীদ আলম খান জানান, আদালত কোনও ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন।

এর আগে এ মামলার শুনানির সময় গত ২৮ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা জানতে তাঁর বিষয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বোর্ডকে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই দিনই আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেই পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি মুলতবি রাখা হয়।

এর আগে গত ৩১ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। এরপর গত ১৪ নভেম্বর সাতটি গ্রাউন্ডে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আপিল আবেদন করা হয়। ১৭ নভেম্বর আবেদনটি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ২৫ নভেম্বর শুনানির পর বিচারক সেটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে আরো তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন খালেদা জিয়া।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ