ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্যে আনা নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বিলটি আগামী সপ্তাহে সংসদে গৃহীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পার্লামেন্টে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল (ক্যাব) নামে এ বিল আগেও একবার পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তখন সেটি পাস করানো যায়নি।

ওই পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ফের পার্লামেন্টে উঠতে যাচ্ছে বিলটি। তবে আগের বারের প্রতিবাদের কথা মাথায় রেখে এবার আগেভাগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

আজ বুধবার বিলটি পাসের আগে গতকাল মঙ্গলবার এ নিয়ে কথা বলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী রাজনাথ সিং। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এমপিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই বিল কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এটি অগ্রাধিকার পাবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে, হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি এই ছয়টি সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন পার্লামেন্টে এ বিল উপস্থাপন করবেন, তখন বিজেপি-র সব এমপিকে উপস্থিত থাকতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিলটি সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে পাড়ি জমানো হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টানরা ভারতীয় নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত হবে। সংসদে এই আইন পাস হলে এসব শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য দেশটির ১৯৯৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করা হবে।

গতকাল ঝাড়খণ্ডে নির্বাচনী এক প্রচারে অংশ নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকা (এনআরসি) বাস্তবায়ন করে সব অনুপ্রবেশকারীকে ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়া হবে।

প্রথমবারের মতো অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার সময়সীমা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই সারা দেশেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকার বাস্তবায়ন হবে।

প্রথম দফায় যখন এ বিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন এর বিরুদ্ধে আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। প্রতিবাদে নেমেছিল অসমিয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো। উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। এবারও বিল পেশের খবর বেরোতেই আসামের নানা জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। যেসব সংগঠন ইতোমধ্যে রাজপথে নেমেছে, তার মধ্যে অন্যতম কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রচার সচিব রাতুল হোসেইন বলেন, ভারতীয় সংবিধানের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু এই বিলে সেটাকেই ধ্বংস করে দিয়ে হিন্দু রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে। এদেশের নাগরিকত্ব পেতে ধর্ম কোনও ভিত্তি হতে পারে না, আর এই বিলে সেটাই করা হচ্ছে।

রাতুল হোসেইন বলেন, আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি)-তে যে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে, তাদের মধ্যে বেছে বেছে মুসলমান ছাড়া অন্যদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই এই বিল আনা হচ্ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ