'ধর্ষণকারীদের জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত'
বৃহস্পতিবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ধর্ষণকারীদের জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত’

সম্প্রতি ভারতের হায়দরাবাদে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ভারত প্রতিবাদে উত্তাল। তার প্রভাব পড়েছে ভারতের সংসদেও। এর প্রভাব এতটাই যে, সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভা সাংসদ জয়া বচ্চন বললেন, ধর্ষণকারীদের জনসমক্ষে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত। কারণ, এমন কঠোর শাস্তি দিতে হবে যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

জয়া বচ্চন বলেন, সরকার আইন পাশ করে ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারপরেও নিরীহ মেয়েরা কি সুবিচার পেয়েছে? নির্ভয়াও কি সুবিচার পেয়েছিল?

তিনি বলেন, এই সংসদে দাঁড়িয়ে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আমি কতবার যে বলেছি, ক্ষোভ প্রকাশ করেছি তার ইয়ত্তা নেই। তা সে নির্ভয়া কাণ্ড হোক, কাঠুয়া কাণ্ড আর এখন বলছি তেলেঙ্গানার ঘটনা নিয়ে। আমার মনে হয়, জনগণ এখন সরকারের থেকে একটা সুস্পষ্ট জবাব চাইছে। আর কতদিন এমন চলবে। আর কত যন্ত্রণা কত অত্যাচার সহ্য করতে হবে মেয়েদের?

তিনি বলেন, হায়দরাবাদে যেদিন এই নরকীয় ঘটনা ঘটে, তার আগের দিনই প্রায় একই রকম কাণ্ড হয়েছিল। আমার প্রশ্ন হলো, পুলিশ তথা নিরাপত্তা বাহিনীর কি কোনও দায়িত্ব নেই? কেন তাদের দায়বদ্ধ করা হবে না। কেন ঘটনা ঘটার পর তবেই সবাই নড়েচড়ে বসবে?

এদিন রাজ্যসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডুও হায়দরাবাদের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ধর্ষণকারীদের কোনও ক্ষমা নয়। শুধু আইন করেই এই বিকার শোধরানো যাবে না। এ ব্যাপারে প্রতিকারের পথ সবাই মিলে খুঁজতে হবে। যা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গিয়েছে।

রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদও বলেন, গোটা দেশ মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সামাজিক রোগের প্রতিকারের পথ বের করতেই হবে। এমন পরিবেশ দেশে গড়ে তুলতে হবে যাতে এ ধরনের ঘটনাই না ঘটে।

বাস্তব হলো অতীতে নির্ভয়া কাণ্ডের পরেও সংসদে এমন আলোচনা হয়েছিল। ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দলমত নির্বিশেষে সাংসদরা। তারপর এ ব্যাপারে আইন সংশোধনের আগে একটি সংসদীয় কমিটিও গড়া হয়েছিল। যে কমিটিতে এমনকি ধর্ষকের যৌনাঙ্গ ছেদ করে দেওয়ার সুপারিশ পর্যন্ত এসেছিল। শেষমেশ আইন সংশোধন করে বলা হয়, ধর্ষণের শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ হলো, তখনও বিতর্ক ছিল যে, কঠোর শাস্তির বিধান দিলেই কি এ ধরণের ঘৃণ্য অপরাধ বন্ধ করা যাবে। সেটাই কি যথেষ্ট পদক্ষেপ? কারণ দেখা যাচ্ছে, তারপরেও ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ থেকে শুরু করে সমস্ত রকম ঘটনাই ঘটছে।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও বলেন, আসলে আইন দিয়েই সব কিছু রোখা যাবে না। মা-বোন তথা মাতৃশক্তির প্রতি আচরণ শোধরাতে হবে। সমাজে মেয়েদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে দেখতে হবে। কেউ বাড়িতে মা-বোনকে যেমন সম্মান দিয়ে চলেন, তেমনই সমাজে মেয়েদেরও সেই সম্মান দিয়ে চলতে হবে। এই মানসিকতার বদলটাই আগে জরুরি।

সূত্র : দ্য ওয়াল

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ