কেন খাবেন পানিফল
শনিবার, ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কেন খাবেন পানিফল

বর্ষার শেষভাগ থেকেই বাজারে দেখা মিলছে লোভনীয় পানিফলের। এটি গ্রাম-বাংলার খুবই পরিচিত একটি ফল। পানিতে জন্মে বলে এর নাম হয়েছে পানিফল। এক সময় দেশের বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল-নদীতে যথষ্টে পরিমাণে পানিফল ফলতো। কিন্তু খাল-বিল ভরাট, কীটনাশক, পানি দূষণ ইত্যাদির কারণে অনেক এলাকাতেই আর এই ফলটি ফলে না। তবে কিছু উদ্যোগী কৃষকের কারণে ওই ঘাটতিটুকু পূরণ হয়ে গেছে। সাতক্ষীরা জেলা ও নওগাঁ জেলায় পানিফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে শহরেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সিঙ্গারার মত দেখতে বলে পানিফলকে অনেক জায়গায় সিঙ্গারা ফল নামেও ডাকা হয়। এর ইংরেজি নাম Water chestnut, উদ্ভিদ তাত্ত্বিক নাম Trapa bispinosa। এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, ফিলিপাইন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে পানিফলের আবাদ হয়। চীনে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে থেকেই চীন দেশে পানিফলের চাষ হয়ে আসছে বলে জানা যায়।

Panifal-2

 

পানিফল দেখতে সিঙ্গাড়ার মতো তিন কোণাকার। দুই পাশে শক্ত দুইটি কাঁটা  থাকে। তবে ফল ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে এটি দেখতে যেন অবিকল গরুর মাথার মতো। দুই পাশে শিঙের মতো দুইটি কাঁটা ফলের উপর চোখ নাক মুখের আবয়ব অত্যন্ত স্পষ্ট। ফলের রঙ লাল, নীলাভ সবুজ বা কালচে সবুজ। পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিণ্ডকার বা ত্রিভূজাকৃতির নারম সাদা শাঁস। কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ মজা। রসাল ও মিষ্টি মিষ্টি ভাব।

বর্ষায় খাল-বিল-ডোবা পানিতে ভরে গেলে সেখানে সুপ্ত বীজ থেকে পানিফলের গাছ জন্মায়। অগ্রহায়ণ পৌষ মাসে গাছে ফুল আসে। ফুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন পর ফল পরিপক্ব হয়। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পানিফল পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে।

পানিফলের পুষ্টি ও ভেষজগুণ

পানিফল পুষ্টিতে ভরপুর। প্রায় ৯০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেড, ৬০ শতাংশ শর্করা আছে। তাছাড়া বেশ ভালো পরিমাণ আঁশ, রাইবোফ্লেবিন, ভিটামিন বি, পটাসিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, আমিষ, ভিটামিন আছে। পুষ্টিমানের বিবেচনায় পানিফলে খাদ্য শক্তি আছে ৬৫ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৮৪.৯ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১.৬ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৯ গ্রাম, শর্করা ১১.৭ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১ ০.১৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২ ০.০৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১৫ মিলিগ্রাম।

পানিফলের শুধু খাদ্যগুণই নয় রয়েছে ঔষধি গুণও। পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত পা ফোলা রোগ কমে যায়। উদরাময় ও তলপেটে ব্যথায় পানিফল খুবই উপকারী। বিছাপোকা অন্যান্য পোকায় কামড় দিলে যদি জ্বালা পোড়া হয় তবে ক্ষতস্থানে কাঁচা পানিফল পিষে বা বেঁটে লাগালে দ্রুত ব্যথা দূর হয়। কাঁচা পানিফল বলকারক, দুর্বল ও অসুস্থ মানুষের জন্য সহজপাচ্য খাবার। পানিফলে শর্করা ও প্রোটিন আছে যথেষ্ট। শাঁস শুকিয়ে রেখে খাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ