যেভাবে দাম বাড়ে সেভাবে তো আর বেতন বাড়ে না
সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

যেভাবে দাম বাড়ে সেভাবে তো আর বেতন বাড়ে না

বাজারে সবজির দাম বেশি। কারণ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে শাকসবজি রাজধানীতে আসতে পারেনি। বাজারে ময়দার দাম বেশি। কারণ কানাডা থেকে গম বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বেশি। কারণ ভারত পেঁয়াজ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যেন কারণ অকারণে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এদিকে দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নাকাল দেশের জনগণ।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় দাম বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে শাক সবজির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। অথচ এই সময়ে শাকসবজির দাম কমে আসা স্বাভাবিক। ময়দা প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা। আটার দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। ডিমের দাম বেড়েছে ডজন প্রতি প্রায় ২০ টাকা। আর এদিকে গত দুই সপ্তাহ থেকেই একটু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল ও তেল।

বাজারে চায়না ও মিশরের পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম হলেও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে দেশি পেঁয়াজ। চায়না থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন দেশি পেঁয়াজ একেবারে ফুরিয়ে আসায় দাম একটু বেশি।

মিরপুরের শেওড়াপাড়া কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৫০ টাকার ওপরে। আর ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হয়েছে টমেটো, উস্তে, শসা ও নতুন আলু। বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। শসা বিক্রি হচ্ছে একই দামে। আর নতুন আলু ও উস্তে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।

এদিকে বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা, ধুন্দল, পটল ও মুলা। আর বাজারে গাজর ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাধাকপি ৪০ টাকা ও প্রতিহালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

বাজারে কথা হয় সবজি কিনতে আসা আব্দুল আউয়ালের সাথে। তিনি বলেন, যেই সবজির দাম জিজ্ঞেস করি সেটাই বলে ৬০ টাকা ৮০ টাকা। সবকিছুই যেন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তবুও বাঁচতে হলে তো খেতে হবে।

এদিকে শাক সবজির দাম বাড়ার পেছনে পরিবহন ধর্মঘটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। শেওড়াপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, পাইকারি বাজারে শাকসবজির সংকট থাকায় আমাদেরকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের থেকে সব সবজিতেই প্রায় পাঁচ থেকে দশ টাকা বেড়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে বাজারে প্রতি কেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কিছুদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩২ টাকা। হঠাৎ করে যেন বেড়েছে ময়দার দাম। প্রতি কেজি আটাতেও দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। এদিকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে কানাডা থেকে গম আমদানি কম হওয়াকে দায়ী করেন। কানাডায় গমের দাম বেড়ে গেছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

কিছুদিন থেকে বাজারে বেড়েছে চাউলের দাম। টিসিবির হিসেবে বাজারে চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত আর নাজির মিনিকেট সাধারণ মান ৪৮ থেকে ৫৩ টাকায়। উত্তম মানের চাল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। আর মোটা চাল অর্থাৎ স্বর্ণা, চায়না, ইরি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে।

অথচ মাসের প্রথম সপ্তাহেও এই মোটা চাল বিক্রি হয়েছ ২৮ থেকে ৪০ টাকা দরে। এমনকি সরু বা চিকন চাল ছিলো ৪৫ তেকে ৫৬ টাকার মধ্যে। চালের দাম বাড়ার পেছনে কোন যৌক্তিক কারণ দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।

এদিকে এ মাসের শুরুতে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দামও। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলে। খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন ৮০-৮৪ টাকা ও পাম অয়েল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০২ থেকে ১১০ টাকায়। এখানেও ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দাম বেড়েছে বলে জানান।

গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যেখানে গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। সেখানে আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। আর প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকায়।

বাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করা সোলাইমানের সাথে। তিনি বলেন, শুধুই দাম বাড়ে, যেটা একবার বাড়ে সেটা আর কমে না। যেভাবে পণ্যের দাম বাড়ে সেভাবে তো আর বেতন বাড়ে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।

এদিকে সবকিছুর দাম যখন নাগালের বাইরে তখন কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির বাজারে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আকৃতি অনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয় ১৫০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি, চাষের রুই কেজি ৪০০ টাকা, পাবদা ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। টেংরা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা দরে।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ