৫৬ প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি সম্মাননা দিল শিল্প মন্ত্রণালয়
সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৫৬ প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি সম্মাননা দিল শিল্প মন্ত্রণালয়

দেশের বৃহৎ শিল্প উৎপাদন খাতের ২০ প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ও এনসিআইডি পদাধিকারী আরও ৮ জনসহ মোট ৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিআইপি (শিল্প) ২০১৭ সম্মাননা প্রদান করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইপি সম্মাননা ক্রেস্ট প্রাদন করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিল্পমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম প্রমুখ।

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনীতিতে অবদানের জন্য ‘সিআইপি (শিল্প) নির্বাচন নীতিমালা-২০১৪’ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জন্য ৪৮ জন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

২০১৭ সালের জন্য মনোনীত এসব সিআইপিরা এক বছরের জন্য পরিচয়পত্র পাবেন, যা দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।

জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদের ৬ জনসহ মোট ৮টি ক্যাটাগরিতে ৪২ জনকে সিআইপি সম্মাননা দেন। এর মধ্যে এনসিআইডি ক্যাটাগরিতে ৬ জন, বৃহৎ শিল্প (উৎপাদন) খাতে সিআইপি হয়েছেন ১৫ জন, বৃহৎ শিল্প (সেবা) খাতের ৫ জন, মাঝারি শিল্প (উৎপাদন) খাতে ৯ জন, মাঝারি শিল্প (সেবা) খাতের ৩ জন, ক্ষুদ্র শিল্প (উৎপাদন) খাতের ৫

জন, ক্ষুদ্র শিল্প (সেবা) খাতের একজন, মাইক্রো শিল্প খাতে দুজন এবং কুটির শিল্প খাতে দুজনকে সিআইপি শিল্প হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়।

এনসিআইডি ক্যাটাগরিতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সেলিমা আহমাদ, বাংলাদেশ এমপ্লায়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি সালাহউদ্দিন কাশেম খান এবং জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নূরুল গণী শোভন।

বৃহৎ শিল্প উৎপাদন ক্যাটাগরিতে ১৫ জন। তারা হলেন বিএসআরএম স্টিলসের চেয়ারম্যান আলী হোসেন আকবর আলী, ডিঅ্যান্ডএস প্রিটি ফ্যাশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী তালুকদার, জিন্নাত ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, নান্নু স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম শোয়েব, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুর রহমান, বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. পারভেজ রহমান, আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান, বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আলম, বাদশা টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাদশা মিয়া, বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আবু নোমান হাওলাদার, বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান, মীর সিরামিক লিমিটেডের পরিচালক মাহরিন নাসির, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, ইউনিভার্সেল জিন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।

বৃহৎ শিল্প সেবা খাতে এসটিএস হোল্ডিংস লিমিটেডের খন্দকার মনির উদ্দিন, নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম, দিন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী সিআইপি কার্ড পেয়েছেন

মাঝারি শিল্প উৎপাদন খাতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- মেসার্স জজ ভূঁইয়া টেক্সটাইল মিলস এর স্বত্বাধিকারী ফাইজুর রহমান ভূঁইয়া, প্রমি এগ্রো ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ এনামুল হাসান খান, অকোটেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সোবহান , মেসার্স সিটাডেল অ্যাপারেলস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিদুল ইসলাম খান, মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া লিটন, ফু-ওয়াং ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আহমেদ চৌধুরী, ফারইস্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজমত রহমান, কুলিয়ারচর সি ফুডস কক্সবাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসা মিয়া, বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেড এম গোলাম নবী।

মাঝারি শিল্প সেবা খাতে নাভানা লিমিটেডের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম, শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিচালক জেসমিন সুলতানা, স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন।

ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদন খাতে অন্বেসা স্টাইল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউ এম আসেক, সোনালী ফেব্রিক অ্যান্ড টেক্সটাইল মিলস প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী হোসেন, কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মিজবার রহমান, আমানত শাহ উইভিং প্রসেসিং লিমিটেডের পরিচালক রেজাউল করিম, হান্ড্রেড প্লাস লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ হারুন গনি।

ক্ষুদ্রশিল্প সেবা খাতে ফেয়ার স্ট্রিবিউশন লিমিটেড এর পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আলম আল মাহবুব সিআইপি কার্ড পেয়েছেন।

মাইক্রো শিল্পখাতে সিআইপি কার্ড পেয়েছেন যমুনা মিটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম ভূঁইয়া, টেকনো মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যশোদা জীবন দেবনাথ।

কুটির শিল্প খাতে মেসার্স হক ড্রাইসেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদম তমিজি হক ও স্মার্ট লেদার প্রোডাক্টসের প্রোপাইটর মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি।

সিআইপিরা কার্ড পাওয়ার পর থেকে এক বছরের জন্য ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণের সময় বিমান, রেলপথ, সড়ক ও জলপথে সরকারি যানবাহনে আসন সংরক্ষণের অগ্রাধিকার পাবেন। সহজে ভিসা পাওয়ার জন্য তাদের অনুকূলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে ‘লেটার অব ইন্ট্রোডাকশন’ দেবে। বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ-২ ব্যবহারের সুবিধা এবং সচিবালয়ে প্রবেশের পাস পাবেন তারা। সরকারি হাসপাতালে স্ত্রী, সন্তান ও নিজের চিকিৎসা

সেবা গ্রহণে অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া সরকার শিল্পবিষয়ক নীতিনির্ধারণী কোনো কমিটিতে সিআইপিদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

অর্থসূচক/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ