কর মেলায় আয় বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা
রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কর মেলায় আয় বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা

রেকর্ড সংখ্যক রিটার্ন দাখিল ও করদাতাগণের অভাবিত সাড়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘জাতীয় আয়কর মেলা-২০১৯’। এবার গত বছরের তুলনায় আয়কর আদায় বেড়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। এবং আজ মোট আয়কর আদায় হয়েছে ৫৯৭ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৮ টাকা।

এবছর আয়কর মেলায় মোট কর আদায় হয়েছে ২ হাজার ৬১৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৬৮ টাকা। যেখানে গত বছর ২০১৮ সালে আয়কর আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৪ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকা।

গত ১৪ নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠিত আয়কর মেলায় সর্বমোট ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫ জন করদাতা তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। যেখানে ২০১৮ সালে কর মেলায় দাখিলকৃত রিটার্ন সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩ জন। আয়কর মেলার শেষ দিনে রিটার্ন জমা পড়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৫ টি।

সপ্তাহব্যাপী দশম জাতীয় আয়কর মেলা ২০১৯ এর শেষদিনেও করদাতাদের পদচারণায় মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গন। আজ সকালে মেলা শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল ৯ টার অনেক আগেই করদাতাগণ মেলা প্রাঙ্গনে হাজির হতে থাকেন। করদাতাদের সুবিধার্থে সকাল ৮টা থেকেই মেলার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং বিকাল ৫ টার পরিবর্তে বিরতিহীনভাবে রাত ৮টা পর্যন্ত কর সেবা প্রদান করে। বর্ধিত নির্ধারিত সময়ের পরেও রিটার্ন বুথগুলোতে কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

প্রচন্ড ভীড় থাকা সত্ত্বেও সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে পেরে করদাতাদের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। আয়কর মেলার ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক আয়কর রিটার্ন (৬,৫৫,০৯৫টি) দাখিল, আয়কর জমা এবং করদাতাগণের অভাবিত উপস্থিতির মাধ্যমে সফল পরিসমাপ্তি হলো আয়কর মেলা ২০১৯। আয়কর মেলায় স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করার জন্য সম্মানিত করদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা। এছাড়া ই-পেমেন্ট এর মাধ্যমে সম্মানিত করদাতাগণ রকেট, নগদ, বিকাশ, ইউপে শিওর ক্যাশ, ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে তাদের আয়কর জমা দিতে পেরেছেন। আয়কর মেলায় ৭ দিনে ই-পেমেন্টে ৬ হাজার ৪২০ জন সেবাগ্রহণকারী ৪ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা কর প্রদান করেছেন।

দুপুরে আয়কর মেলা প্রাঙ্গনে বৃহৎ আয়কর ইউনিট (এলটিইউ) এর আওতাধীন ২১টি ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২৯৩ কোটি টাকার আয়করের পে-অর্ডার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার হাতে হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মেলার মতো হয়রানিমুক্ত কর সেবা আয়কর অফিসেও পাওয়া যাবে। ঝামেলাবিহীনভাবে কর রিটার্ন জমা দেয়ার অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কারণে করদাতারা আয়কর মেলাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব সৈয়দ আবুল হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে এনবিআর চেয়্যারম্যান বলেন, জনাব সৈয়দ আবুল হোসেন বৃহৎ আয়কর ইউনিটের ব্যক্তি পর্যায়ের সর্বোচ্চ করদাতা। তিনি এবছর ৩০ কোটি টাকারও অধিক আয়কর দিয়েছেন।

কর-জিডিপির আনুপাতিক হার বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমাদের কর-জিডিপি ১০ থেকে ১১ শতাংশ। ২০২৫ সালে কর-জিডিপি ১৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ নিয়ে যেতে চাই। এ জন্য সবার সহোযোগিতা প্রয়োজন। সামর্থবানদের আয়কর প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আয়কর মেলা আজ শেষ হলেও ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কর অঞ্চলে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া যাবে। মেলার পরিবেশে যেন কর অফিসগুলোতে করদাতারা করসেবা গ্রহণ করতে পারেন সেজন্য কর বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা করের আওতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি, করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করছি। আয়কর মেলা আয়োজন তারই একটি অংশ।

অর্থসূচকএমআরএম/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ