গুজবে বেড়েছে লবণের চাহিদা, মন্ত্রণালয় বলছে ঘাটতি নেই
সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

গুজবে বেড়েছে লবণের চাহিদা, মন্ত্রণালয় বলছে ঘাটতি নেই

দাম বাড়ার গুজবে বেড়েছে লবণ বিক্রি। কেউ কিনছেন দুই কেজি আবার কেউ কিনছেন ৫ কেজি। সবাই বাসার জন্য লবণ কিনে মজুদ রাখছেন। যাতে লবণের দাম বেড়ে গেলে বেশি দামে কিনতে না হয়।

এদিকে রাজধানীর দোকানগুলোতে লবণের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ দোকানেই লবণ নেই। অনেক দোকানে আবার পাওয়া যাচ্ছে মোটা সাধারণ লবণ। এত লবণ বিক্রি সম্পর্কে মিরপুর ২ নাম্বারের আদি স্টোরের দোকানদার ওয়াসিম বলেন, সকাল থেকে আজ ৭০ কেজির মতো লবণ বিক্রি করেছি। যেখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজির বেশি লবণ বিক্রি হয় না।

তিনি বলেন, লবণের দাম বাড়ছে শুনে ক্রেতারা বেশি লবণ কিনছেন। কেউ দুই কেজি আবার কেউ ৫ কেজি কিনছেন। পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে ৪০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা হওয়ায় জনগণের মধ্যে এই ভীতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেওড়াপাড়ার হাফিজা আক্তার কিনেছেন ৩ কেজি লবণ। এত লবণ কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনলাম লবণের নাকি দাম বাড়ছে। ইচ্ছা ছিল ৫ কেজি লবণ কেনার, কিন্তু এই দোকানে তিন কেজি লবণই ছিল। তাই এটা নিয়েই বাসায় যাচ্ছি।

ধানমন্ডির শুক্রাবাদে কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায় লবণের সংকট রয়েছে। অনেক দোকানেই দেখা যায় লবণ নেই। এদিকে নিউমার্কেটে বিভিন্ন দোকানে দেখা যায় একই অবস্থা। আর রাজধানীর পল্টনে দেখা যায় বেড়েছে দোনগুলোতে লবণ বিক্রি। অনেক দোকানেই দেখা গেছে লবণের সংকট।

এদিকে চাহিদা বাড়লেও এখনও রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে নির্দিষ্ট দামেই বিক্রি হচ্ছে লবণ। বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের লবণের কেজি ৩৫ টাকা। আর সাধারণ লবণের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫ টাকা। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিপণনকারী কোম্পানি এক কেজি লবণ বিক্রি করেন ২৫ থেকে ২৬ টাকা দরে। এত দিন কারওয়ান বাজারের মতো বড় দোকানে এসব লবণ ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত। তবে ক্রেতাদের বাড়তি চাপ দেখায় খুচরা বিক্রেতারা এখন আর ছাড় দিয়ে লবণ বিক্রি করছেন না।

তবে দেশে লবণের কোন ঘাটনি নেই বলে জানিয়েছে কয়েকটি লবণ বিপণনকারী কোম্পানি। তারা বলছে, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। বরং বাড়তি লবণ নিয়ে কোম্পানিগুলো ও চাষিরা বিপাকে আছে। দাম বাড়ার আশঙ্কাটি পুরোটাই গুজব।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাবার লবণ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিদের কাছে ৪ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে।

এ ছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

দেশে প্রতি মাসে খাবার লবণের চাহিদা কমবেশি ১ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, লবণের মজুত আছে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে।

লবণসংক্রান্ত বিষয়ে তদারকির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রধান কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর নম্বর হচ্ছে: ০২-৯৫৭৩৫০৫ (ল্যান্ড ফোন), ০১৭১৫২২৩৯৪৯ (সেল ফোন)।

লবণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ