স্ত্রীর গণধর্ষণে বাধা দেয়ায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ
সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্ত্রীর গণধর্ষণে বাধা দেয়ায় স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

তিন যুবক এক গৃহবধূকে জঙ্গলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও ব্যাপক মারধর করেন। নিজের স্ত্রীকে বাঁচাতে গেলে স্বামীকে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেন ওই যুবকেরা।

জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটার অভিযোগ তুলেছেন ওই গৃহবধূ।

গতকাল সোমবার রাতে গণধর্ষণ ও আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. শাওন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

দরিদ্র ওই গৃহবধূ সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বসে বর্বরোচিত ওই ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ছানোয়ার হোসেন (৩৫), মো. শাওন (২৫) ও রফিজ উদ্দিন (৪০) তাকে অশোভন প্রস্তাব দিচ্ছিল। তিনি এতে রাজি না হয়ে স্বামী ও শ্বশুরকে ওই তিনজনের বিষয়টি বলে দেন। এতে তারা তিনজন ক্ষুব্ধ হয়। গত শুক্রবার রাত আটটার দিকে তিনি (গৃহবধূ) ঘর থেকে বের হন। এ সময় ওই তিনজন তাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে ছানোয়ারের বাড়ির পেছনের একটি জঙ্গলে নিয়ে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের সময় তাকে ব্যাপক মারধরও করে তারা। গণধর্ষণের পর তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে তার স্বামী তাকে ওই তিন যুবকের কাছ থেকে রক্ষা করতে যান। তাকে ছেড়ে দিতে ওই তিন যুবককে তার স্বামী অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই যুবকেরা তার স্বামীকে মারধর করে সেখান থেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর তারা তাকে বলেন, ‘তোর স্বামী আত্মহত্যা করেছে।’

ওই গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী কেন আত্মহত্যা করতে যাবেন? আমার স্বামীকে ওই তিনজনই হত্যা করেছে। পরে তারা আমার স্বামীকে গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।

তিনি বলেন, আমার মরা স্বামীকে দেখতে তাদের কাছে অনেক কান্নাকাটি করেছি, আমাকে ছেড়ে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমাকে না ছেড়ে সারা রাত গাছের সঙ্গে বেঁধে ব্যাপক মারধর করে। পরে গত শনিবার সকালে পুলিশ আসছে—এমন খবরে তারা আমার বাঁধন খুলে ছানোয়ারের বাড়ির একটি কক্ষে বন্ধ করে রাখে।

প্রেস ক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকেরা ওই গৃহবধূকে গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন। ওই গৃহবধূ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছানোয়ার, শাওন ও রফিজের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে গণধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান বলেন, আমরা এক ব্যক্তির আত্মহত্যার খবর পাই। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। সেটা হত্যা না আত্মহত্যা জানার জন্য লাশটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সেটা জানা যাবে। তবে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণের বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেননি। ওই গৃহবধূ আমার কাছেও আসেননি। গণমাধ্যমের কর্মীদের মাধ্যমেই জানতে পারি ওই গৃহবধূর ধর্ষণের বিষয়টি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ