স্কুলের পথেই হারিয়ে গেলেন মা-ছেলে
মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

স্কুলের পথেই হারিয়ে গেলেন মা-ছেলে

‘আমার সব শেষ, ফারজানা আর শুভ নাই।’ আত্মীয়স্বজনদের মুঠোফোনে ফোন করে মর্মান্তিক এই সংবাদ দিচ্ছিলেন আইনজীবী আতাউর রহমান।

কিছুক্ষণ আগেও আতাউর রহমানের সব ছিল। স্ত্রী আর দুই ছেলে নিয়ে তার সুখের সংসার। এখন স্ত্রী ও এক ছেলে হারিয়ে শোকে বিহ্বল তিনি।

আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় একটি ভবনের নিচতলায় গ্যাসের পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দেয়াল ধসে পাশের রাস্তা ও আরেকটি বাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। এতে সাতজন নিহত হন। নিহত সাতজনের মধ্যে রয়েছেন আতাউর রহমানের স্ত্রী জুলেখা খানম ওরফে ফারজানা (৩৫) ও বড় ছেলে আতিকুর রহমান ওরফে শুভ (৮)।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম আদালতের অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আদালত থেকে ছুটে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। সহধর্মিণীকে হারিয়ে চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। আরেক ছেলেকে জড়িয়ে ধরে তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ফারজানার (তার স্ত্রী) হাত ধরে আতিক (শিশুসন্তান) বের হয়েছিল। কিন্তু স্কুলে পৌঁছানোর আগেই পাথরঘাটার গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে তারা প্রাণ হারায়।

এদিকে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিহত সাতজনের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেয়া হবে।

এছাড়া নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা প্রদান এবং লাশ পরিবহনের ব্যয় নির্বাহের আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ