পেঁয়াজের দাম ২৫০, স্বস্তি নেই সবজিতেও
বৃহস্পতিবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

পেঁয়াজের দাম ২৫০, স্বস্তি নেই সবজিতেও

অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। চার দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি। শীতের সবজি বাজারে আসলেও দাম যেন নাগালের বাইরে। শাকসবজির দামের কথা শুনলেই মাথা ঘুরছে এমন অবস্থায় ক্রেতাদের। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ডিমের দাম।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, আগারগাঁও, কল্যাণপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

রাজধানীর মিরপুর-২ নাম্বার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে একই দামে। আর মিয়ানমার ও মিশরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা কেজি।

গত চারদিনের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। গত রোববার যেখানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। সেখানে আজ চার দিনের ব্যবধানে দাম ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে। যেখানে গতকালও পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। যেন রাত পেরোলেই পেঁয়াজের দাম নতুন সাজে বাজারে আসে। অবশেষে যেন প্রধানমন্ত্রী সেই কথাই মানতে হচ্ছে জনগণকে। পেঁয়াজ বাদেই যেন রান্না করতে হবে বাড়ির গৃহিণীদের।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা নিরুপায়। আমাদেরকে পেঁয়াজ কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। যদি মোকাম থেকে ২৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে হয় তাহলে আমরা কত টাকায় বিক্রি করব। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতা অনেক কমে গেছে। এখন সবাই এসে পেঁয়াজের দিকে একবার নজর দেয়, তারপর একটা মুচকি হাসি দেয়, আর সুন্দর করে একটা কমেন্টস করে চলে যায়।

আর এদিকে গতকাল রাজধানীর খামারবাড়িতে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রিতে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইন। অনেকেই দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সরকারের ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে গিয়েও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে অনেককে।

আবার গতকাল পেঁয়াজের ঝাঁজ পড়েছিল জাতীয় সংসদেও। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম ও অন্যান্য সংসদ সদস্য পেঁয়াজের দাম বাড়ায় বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সমালোচনা করেন।

এদিকে বাজারে শাকসবজির দামের যেন প্রতিযোগিতা চলছে। শীতকালীন সবজি প্রতি পিস ফুলকপির দাম ৬০ টাকা, ৫০ টাকা বাঁধাকপি। টমেটো, গাজর, শসা এগুলো টপকে গেছে শতকের ঘর। প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। এদিকে শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বাজারে শিম ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও উচ্ছে পৌঁছেছে ১০০ টাকার ঘরে। তবে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে করলা। আর প্রতি কেজি বেগুন, বরবটি , পটল ও ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। বাজারে প্রতিকেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মুলা আর চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

এদিকে সবকিছুর দাম যখন নাগালের বাইরে তখন কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আর কম দামে বিক্রি হচ্ছে বয়লার মুরগি। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির বাজারে ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায় আর লেয়ার মুরগি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে আগের মতোই গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এক কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি বিক্রি হয় ৯০০-১০০০ টাকা। এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৬০০-৭০০ টাকা। ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৩৫০-৪৫০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয় ১৫০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাশ বিক্রি হয় ১৬০ টাকা কেজি, চাষের রুই কেজি ৪০০ টাকা, পাবদা ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। টেংরা বিক্রি হয় কেজি ৬০০-৭০০ টাকা দরে।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ