কোনো ব্যাংকই ঋণ আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি
সোমবার, ১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কোনো ব্যাংকই ঋণ আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কোনোটিই খেলাপিদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ আদায়ে তৎপরতা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ।

বরাবরের মতোই শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন ব্যাংকে পৌঁছাতে পারেনি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায়।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা যায় সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবাই ঋণ বিতরণ ক্ষেত্রে ৯% নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৬% সুদে আমানত পাচ্ছে না তারা। আমানত সংগ্রহে সব ব্যাংকই চাপের মুখে রয়েছে। তবে যেসব গ্রাহক সরকারি ব্যাংকের প্রতি অতিরিক্ত বিশ্বস্ত তাদের মধ্যে কেউ কেউ টাকা রাখছেন। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বেশি হওয়ায় এই জায়গাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলো।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সরকারি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন আর্থিক সূচক নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী উভয় ব্যাংকের জন্য চলতি বছরে বেশ কয়েকটি টার্গেট নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়। বিশেষ করে শীর্ষ ২০ খেলাপি, অবলোপনকৃত ঋণ থেকে নগদ আদায়, কৃষি ও এসএমই ঋণ বিতরণ, অন্যান্য বিনিয়োগ, পরিচালন মুনাফা অর্জন, লোকসানি শাখার সংখ্যা হ্রাস, রিট মামলা নিষ্পত্তি, অর্থঋণ ও অন্যান্য মামলা নিষ্পত্তি, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি, শাখাগুলোকে অনলাইনের আওতায় আনাসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সোনালী ব্যাংক। কিন্তু আদায়ের ক্ষেত্রে কোন মুন্সিয়ানা দেখাতে পারেনি তারা। নির্ধারিত সময় শেষে মোট ২৯ কোটি টাকা আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। এরমধ্যে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ১১ কোটি টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত অপর ব্যাংক জনতা ব্যাংকের লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১১ কোটি টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬ কোটি টাকা আদায় করেছে জনতা। নির্ধারিত সময় শেষে মোট ৬৭ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন এ ব্যাংকটি।

একই সময়ে মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা আদায় করেছে অগ্রণী ব্যাংক। জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের মধ্যে ৪ কোটি এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু এসময়ের মধ্যে মোট ৮০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল অগ্রণীর। অন্যান্যদের মত শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ঋণ আদায়ে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ কোটি টাকা। সেখানে মোট ৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে ব্যাংকটি। শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে জানুয়ারি-জুন মাসে মাত্র ৮৬ লাখ টাকা এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯ কোটি টাকা আদায় করেছে রূপালী ব্যাংক।

শত প্রচেষ্টার পরেও লোকসান লোকসানি শাখা সংখ্যা কমাতে পারেনি বেশিরভাগ সরকারি ব্যাংক। প্রাপ্ত তথ্য মতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০১৯ সালের জুন মাসে অনেকটাই বেড়েছে লোকসানি শাখার সংখ্যা। ২০১৮ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের মোট লোকসানি শাখার সংখ্যা ছিল ৯৩ টি। তবে ২০১৯ সালের জুন শেষে লোকসানি শাখা সংখ্যা কমিয়ে ৬১ তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে তারা। এছাড়া বাকি তিনটি ব্যাংক এর মধ্যে কেউই লোকসানি শাখা সংখ্যা কমাতে পারেনি। জনতা ব্যাংকের লোকসানি শাখা সংখ্যা ৬৬ থেকে ৬৯ টি, অগ্রণী ব্যাংকের ২১ থেকে ৪৬ টি এবং রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়ে ১৬ টিতে পরিণত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ