অটো ব্রেকে ইট দিয়ে চালকের ঘুম, তিনটি সিগন্যাল ভাঙে তূর্ণা
মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

অটো ব্রেকে ইট দিয়ে চালকের ঘুম, তিনটি সিগন্যাল ভাঙে তূর্ণা

তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অপু-দে অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের এমন গাফিলতির কারণে রেলওয়ের স্মরণকালের ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা থেকে আখাউড়া রেললাইনটি সিঙ্গেল হওয়ায় সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে ‘উদয়ন’ ট্রেনকে স্টেশনে অপেক্ষায় রেখে ‘তূর্ণা নিশীথা’কে যেতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আরও সিদ্ধান্ত ছিল ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ স্টেশনে প্রবেশের আগ পর্যন্ত মন্দবাগ স্টেশনের আউটারে থাকবে ‘তূর্ণা-নিশীথা’। তবে সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেয়া তিনটি সিগন্যাল অমান্য করে ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে উদয়নে আঘাত করে তূর্ণা-নিশীথা।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তূর্ণার দায়িত্বরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি চালক ও সহকারী অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন।

তিনি বলেন, ট্রেন অটো ব্রেক সিস্টেমে চলে। ট্রেন তখনই চলে যখন ওই ব্রেক সিস্টেমে পা বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে ধরা হয়। ব্রেকে চাপ না দিলে ট্রেন চলে না। তূর্ণার চালক ও সহকারী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় পৌঁছার আগেই ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ওই কর্মকর্তা জানান, তূর্ণা নিশীথা বিরতিহীন ট্রেন। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। অথচ তূর্ণাকে সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, দুই মিনিট অপেক্ষা করলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। কারণ, দুর্ঘটনার আগেই উদয়ন এক্সপ্রেসের ৯টি বগি স্টেশনে ঢুকে পড়েছিল। বাকি ৩টি বগিকে ধাক্কা দেয় তূর্ণা।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপপরিচালক (জনসংযোগ) তৌষিয়া আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি রেলপথ পরিদর্শক নিজে পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ