জীবিতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান!
শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

জীবিতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান!

দেশ, জাতি ও ধর্মভেদে মানুষের মৃত্যু পরবর্তী শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভিন্নতা হয়ে থাকে। তবে এ অনুষ্ঠান মৃত্যুর পরে হবে এটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে বিনামূল্যেই শেষকৃত্য অনুষ্ঠান করে দেওয়ার সুযোগও দিয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হিলিং সেন্টার। তবে এটি মৃতদের জন্য নয়, জীবিত মানুষের জন্য!

হিওয়োন হিলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১২ সালে। এখন পর্যন্ত ওই সেন্টারে ২৫ হাজারেরও বেশি ‘জীবিত মানুষের’ গণ-শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুকে স্মরণ করার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া মানুষের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতাও কমায় এই উদ্যোগ, এমনটাই দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

জীবিত মানুষের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ৭৫ বছর বয়সী চো জে হি বলেন, মৃত্যু সচেতনতা তৈরি হলে, মৃত্যুকে কাছ থেকে অনুভব করলে, জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখা যায়।

কিশোর-কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের কয়েক ডজন মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ঠিক মৃত্যুর পর মৃতের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান যেভাবে হয়, সেটিই হয়েছে। তাদের ছবি তুলে বাঁধাই করা হয়েছে, বাইবেল পাঠ করা হয়েছে। এরপর তারা বন্ধ কফিনের ভেতর ১০ মিনিট শুয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চই জিন কিউ (২৮) জানান, কফিনের ভেতর শুয়ে থাকার সময় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, প্রায়ই অন্যদের নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতেন তিনি। চই বলেন, কফিনে শুয়ে আমার কাছে সেটি অর্থহীন মনে হয়েছে।

আসান মেডিক্যাল সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক প্রফেসর ইয়ু ইয়ুন সিল বলেন, এর মাধ্যমে কম বয়সে মৃত্যুর তাৎপর্য উপলব্ধি করা এবং এর জন্য প্রস্তুত হওয়া জরুরি।

হিলিং সেন্টারের প্রধান জং ইয়ং মুন বলেন, শেষকৃত্য প্রতিষ্ঠান হিওয়োন জীবিতদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে তাদের জীবনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এতে তারা ক্ষমাশীল হয় এবং পরিবার-বন্ধুর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা চিরকাল বাঁচি না। তাই এই অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে আগে থেকেই ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষমা করা সম্ভব হয়। সুখি জীবন যাপন করা যায়।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ