বীমা কোম্পানির আমানত পেতে ব্যাংকের সমান সুযোগ চায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বীমা কোম্পানির আমানত পেতে ব্যাংকের সমান সুযোগ চায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান

বীমা কোম্পানিগুলোর আমানত পেতে ব্যাংকের মতোই সমান সুযোগ চায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে করে দেশের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ আরো ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি তাদের।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সেমিনার হলে আয়োজিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভায় এসব দাবি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন বিএল এফসিএ। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

সমন্বয় সভায় আরও অংশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসি, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি এম আর এ, সমবায় অধিদপ্তর, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

সমন্বয় সভায় আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে একে অপরের কাজে সমন্বয় এর উপর জোর দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি আমানত সংগ্রহ করে বীমা কোম্পানিগুলো, অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাই তারা মনে করছে বীমা কোম্পানিগুলোর আমানত ব্যাংকে রাখার চেয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাখাটাই অধিক যৌক্তিক।

এই সুযোগ তৈরি করতে হলে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাবি মানতে সরকারের সাথে আলোচনা করবে বলে মতামত দিয়েছে বিমা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান আইডিআরএ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে,  কিছু সমবায় প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামের সাথে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংশোধিত বীমা কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোন সমবায় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ছাড়া তাদের নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু আজিজ কো-অপারেটিভ এবং মার্কেনটাইল কো-অপারেটিভ তাদের নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে আসছে। এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর থেকে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তারা হাইকোর্টে রিট করে। যা এখনো চলমান রয়েছে। সভা থেকে সমবায় অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যৌথ মূলধনী কোম্পানির নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিরেক্টরদের কেউ অন্য কোনো ব্যাংকে ঋণ খেলাপি কিনা সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি বিভাগে সরাসরি প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আসছিল যৌথ মূলধনী কোম্পানির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আরজেএসসি। কিন্তু ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী সিআইবি বিভাগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশাধিকার পায় না। সুতরাং এই সুযোগ দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আরজেএসসিতে বিশেষ দুই জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাকে তাদের ভাষায় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বৈঠক সূত্রে আরো জানা যায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ বন্ড চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজকের বৈঠকে সেই প্রস্তাব তুলে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই মুহূর্তে বিশেষ বর্ণ চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিএসইসি।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ