আমদানি মূল্য কম হলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ
বুধবার, ২০শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

আমদানি মূল্য কম হলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ

বিদেশ থেকে আমদানি ক্ষেত্রে মূল্য কম থাকলেও চাহিদার তুলনায় আমদানির পরিমাণ কম হওয়ায় দাম বাড়ছে পেঁয়াজের। ফলে বাজারে পেঁয়াজের দামও কমছেই না।

বিশ্ববাজারের চেয়ে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণের বেশি। যেমন মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪২ টাকায়। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। এর আগে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৭২ টাকা কেজি দরে। বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। মিসরের পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ২৫ টাকা কেজি দরে, বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় আমদানিমূল্যের সঙ্গে বাজারমূল্যের ব্যবধানও বাড়ছে।

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি সেভাবে বাড়েনি। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দামও কমছে না। এদিকে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা দিলেও এখনো তা বাজারে আসেনি।

ভারত রপ্তানি বন্ধের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, এ সময়ে মিয়ানমার থেকে ১২ হাজার ৮৪৯ টন, ভারত থেকে ৮ হাজার ৫৬৮ টন (নিষেধাজ্ঞার আগে এসব পেঁয়াজের ঋণপত্র খোলা হয়েছিল), মিসর থেকে ৫৬২ টন এবং চীন থেকে ৫২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। সব মিলিয়ে এই ২০ দিনে পেঁয়াজের চাহিদা ছিল ৬২ হাজার টন। আমদানি হয়েছে ২২ হাজার টন। আগের মজুত থাকায় সংকট তীব্র হয়নি। তাই পেঁয়াজ আমদানি মূল্য কম হলেও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজ আমদানি যত বাড়বে, বাজারে পেঁয়াজের দামও ততটা কমবে। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারেরও কিছু পেঁয়াজ আমদানি করা উচিত। আর আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদেরও উৎসাহ দিতে হবে। নতুন ফলন না ওঠা পর্যন্ত আমদানির বিকল্প নেই।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক দপ্তর পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিজেদের বাজার সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নেয় দেশটি। এরপরই বাংলাদেশসহ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বাংলাদেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ৬০ টাকা কেজির পেঁয়াজ হয়ে যায় ১০০ টাকা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট কাটাতে এ মুহূর্তে দরকার আমদানি বাড়ানো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধও করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পর কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খুলেছে। এসব পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এছাড়া আমদানিতে বড় গ্রুপ ধারাবাহিকতা না রাখলে সরবরাহ বাড়বে না।

অর্থসূচক/এমআরএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ