ArthoSuchak
রবিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিদেশেও সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন কাউন্সিলর মিজান

র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বরের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি-গাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে মিজান এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

শুক্রবার রাতে মিজানের মোহাম্মদপুরের বাসভবনে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এর আগে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে শুক্রবার ভোরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে তাকে র‌্যাব-২-এর একটি দল গ্রেফতার করে। পরে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিজানকে নিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ও অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, কাউন্সিলর মিজানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে জমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনাকারীদের সঙ্গে মিজানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গ্রেফতার এড়াতে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন মিজান। এর জন্য গত মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) তিনি ঢাকা ছেড়ে শ্রীমঙ্গলে চলে যান। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মিজান ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই টাকা কোথায় রেখেছেন সেটি স্বীকার করেননি। কাউন্সিলর মিজানের বিরুদ্ধে সিলেটের শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অস্ত্র মামলা এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মানিলন্ডারিং আইনে একটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, কাউন্সিলর মিজানের বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি চেক পাওয়া যায়। এছাড়াও ৩টি এফডিআর মিলে মোট ১ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, বিভিন্ন ডেভেলপার্স কোম্পানির জমি দখলে সহায়তার জন্য এসব চেক তাকে দেওয়া হয়েছিল।

সারোয়ার আলম আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে মিজানের নিজস্ব কোনও ব্যবসা নেই। কাউন্সিলর হিসেবে যে সম্মানী (৩৬ হাজার টাকা) পান সেটিই তার একমাত্র আয়ের উৎস। তবে উদ্ধার হওয়া কোটি টাকা ও বিদেশে বাড়ি-গাড়ি কীভাবে হয়েছে মিজানের? আমরা ধারণা করছি, এসব সম্পত্তি সে অবৈধ অর্থ দিয়ে গড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাউন্সিলর মিজান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের কাছে ত্রাস হিসেবে পরিচিত। তাকে পাগলা মিজান নামে সবাই চেনে। মোহাম্মদপুরে অপরাধীদের প্রশ্রয়দাতা ছিলেন এই কাউন্সিলর। তার কারণে মোহাম্মদপুরে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও ক্ষমতার জোরে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেত।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৪ সালে মোহাম্মদপুর এলাকায় একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে তুচ্ছ ঘটনায় শত শত মানুষের সামনে জুতাপেটা করেন মিজান। তার অপকর্মের কথা কেউ মুখে বললেই নিজের বাহিনী দিয়ে নির্যাতন শুরু করতেন। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা তার ব্যাপারে নীরব থাকায় তিনি সাধারণ কাউকে পাত্তা দিতেন না। অপরাধ করেও তিনি এবং তার লোকজন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন।

চলমান অভিযানের মধ্যেও মিজানের অপকর্ম থামছিল না। গত ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিভাগ বিহারী ক্যাম্পে ৩২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে তিনি বিহারীদের উস্কে দেন। ওই ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে ইউনুস হত্যা, ২০১৬ সালে একটি জোড়া খুনের মামলায় তার নাম জড়িয়ে রয়েছে।

কথিত আছে, কয়েক দশক আগে একবার পুলিশের তাড়া খেয়ে পুকুরে নেমেছিলেন মিজান। পরে গ্রেফতার এড়াতে পরনের পোশাক খুলে রেখে তিনি পুকুর থেকে উঠে আসেন, পাগলের মতো আচরণ করতে থাকেন। সেই থেকে লোকজন তাকে ‘পাগলা মিজান’ হিসেবে চেনেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এক সময়ে সিটি কর্পোরেশনের ম্যানহোলের ঢাকানা চুরি করতেন এই মিজান। এরপর গড়েছিলেন ছিনতাইকারী গ্রুপ। রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে পুরো মোহাম্মদপুরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণই চলে আসে তার কাছে। নেতা থেকে হয়ে যান জনপ্রতিনিধিও।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ