সবজির দাম না কমলেও, কমেছে পেঁয়াজ-মরিচের
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সবজির দাম না কমলেও, কমেছে পেঁয়াজ-মরিচের

দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। দু-একটি বাদে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। তবে আমদানি বাড়ায় কিছুটা কমেছে পেঁয়াজ ও মরিচের দাম। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন শীতের সবজি পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত সবজির দাম এমনই থাকবে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, আগারগাঁও ও কাওরান বাজার ঘুরে দেখা যায় বাজারে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে পেঁয়াজের দাম। গত দুইদিন আগেও যে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। তা আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। যা গত দুইদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

শেওড়াপাড়া বাজারে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আসলে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজ গুদামে আছে কি নাই সেটা না দেখে শুধু ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে এটা শুনেই তারা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছে। পেঁয়াজের এত দাম বাড়ার যুক্তিসঙ্গত কোন কারণই নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, আসলে বাজারে সরকারের যথেষ্ট মনিটরিং এর অভাব রয়েছে। এর ফলেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছামত জনগণকে চাপে ফেলে এভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। আর জনগণ এতে ভোগান্তির শিকার হয়। আসলেই এসব ব্যবসায়ীর বিচার হওয়া উচিত।

কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। যেহেতু মিয়ানমার ও অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আসছে সেহেতু খুব শীঘ্রই দাম আরো কমে যাবে বলে তিনি জানান।

গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকায় নামবে। প্রতিদিনই পেঁয়াজ কম বেশি আমদানি করা হচ্ছে। কেজি প্রতি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ৪৫ টাকা। পাইকারি মূল্য, যাতায়াত মূল্য, সব মিলিয়ে ৫০ কিংবা ৬০ টাকা কেজি হওয়া উচিত।

এদিকে বৃষ্টির কারণে বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা মরিচ আজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত তিনদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। আর বাজারে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে।

সবজির বাজারে লাগাম টানার মতো যেন কেউ নেই। বাজারে ৫০ টাকার নিচে যেন কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের মতই টমেটো, গাজর ও শিম কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। পাশাপাশি একই দামে বিক্রি হচ্ছে বরবটি ও উস্তে।

প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেঁড়স, শসা, ঝিঙ্গে, ধুন্দুল, কচুর লতি ও কচুর মুখি।

গত সপ্তাহের থেকে কিছুটা বেড়ে পটল ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে একই দামে।

গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। আর ডিমের ডজন গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি। এছাড়া তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি চাল, ডাল, আটাসহ অন্যান্য পণ্যে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতি কেজি ইলিশ মাছ সাইজ অনুযায়ী ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০-১৬০ টাকা, চাষের রুই ৩৫০-৪০০ টাকা, পাবদা ৬০০-৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০ টাকা, শিং ৪০০-৫৫০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা এবং চিতল মাছ ৫০০-৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থসূচক/এমআরএম /এমএস

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ