সম্রাট এখন কোথায়?
শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সম্রাট এখন কোথায়?

রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্রাট কোথায় এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেছে। কেউ বলছেন সম্রাট আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ বলছেন, ছয় দিন ধরে কাকরাইলের কার্যালয়েই অবস্থান করছেন সম্রাট।

রাজধানীর কাকরাইল রাজমণি সিনেমা হলের উল্টোপাশে আটতলা ভবনে ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ব্যক্তিগত অফিস। ভবনটির চতুর্থ তলায় সম্রাটের অফিস। এখানেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসেন। দিনের অধিকাংশ সময় এখানেই কাটাতেন তিনি। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এসব এই ভবনে বসেই সম্রাট নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর সম্রাটের সহযোগী ও যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুইয়াকে ক্যাসিনো পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে র্যা ব। পরে যুবলীগের আরেক নেতা জিকে শামীমসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সম্রাটের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয় আরও আগ্রহ।

কেউ কেউ বলছেন ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম অভিযানের দিন সম্রাট তার কাকরাইলের অফিসের অবস্থান করছিলেন। তবে বর্তমানে সম্রাট ওই অফিসে নেই, গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। আবার কেউ বলছেন সম্রাট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সম্রাটের ঘনিষ্ট বা যুবলীগের কেউই কিছু বলছেন না।

তবে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট এখন তার কাকরাইলের অফিসে নেই। তিনি অন্য কোথাও অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সম্রাটের কাকরাইল অফিসের সামনেও আগের মতো কোনো ভিড় বা নেতাকর্মীর আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়নি। স্বাভাবিক সময়ে সেখানে সব সময় ভিড় থাকে।

সূত্রগুলো আরও জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পরও সম্রাট তার ব্যক্তিগত অফিসেই অবস্থান করেন। ওইদিন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যেকোনো সময় গ্রেফতার হচ্ছেন সম্রাট। দুপুর থেকে সারারাত যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী সেখানে অবস্থা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এরপরও দু’দিন অর্থাৎ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তিনি ওই অফিসেই ছিলেন।

সম্রাট দেশের বাইরে চলে গেছেন এমন গুঞ্জনও আছে। তবে অপর একটি সূত্র জানায় সম্রাট যেখানেই থাক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর নজরদারিতেই আছেন। অভিযানের প্রথম দিন থেকেই সম্রাটকে আইন-শঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নজরদারিতে রেখেছে।

গত বুধবার ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রে র্যা বের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্রাটের শীষ্য খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় ঠিকাদার জি এম শামীমকে, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাদের চাঁদাবাজি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ার পরপরই জুয়ার আখড়া বন্ধে এই অভিযান শুরু হয়।

ক্যাসিনো-জুয়াবিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন- ঢাকায় ক্যাসিনো ব্যবসার মূলে আছেন সম্রাট। তার হাত ধরেই ক্যাসিনোর প্রসার ও বিস্তার।

সম্রাটের ক্যাসিনোর দেখাশোনা করতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তারা এক বছর আগে পল্টনের প্রীতম–জামান টাওয়ারে ক্যাসিনো চালু করেছিলেন। মমিনুল হক এখন বিদেশে।

ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চললেও গডফাদার হিসেবে পরিচিত সম্রাটকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না- এ প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্ট প্রায় সবার। সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গডফাদার-গ্র্যান্ডফাদার বলতে কিছু নেই। আমরা চিনি অপরাধীকে। অপরাধী যে বা যারাই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্রাটকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাকশনটা শুরুর এক সপ্তাহও হল না। এক সপ্তাহের মধ্যে সব ব্যবস্থা হবে? তবে কাউকেই ছাড় দেয়া কবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ