বিভ্রান্তিকর তথ্য গবেষণা ও প্রচারে খাদ্য নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে
রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিভ্রান্তিকর তথ্য গবেষণা ও প্রচারে খাদ্য নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে

কোন খাদ্য কতটুকু নিরাপদ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে। তাদের মধ্যে গবেষণার ক্ষেত্রেও নেই সঠিক সমন্বয়। এ কারণে খাদ্য নিয়ে বারবার বিচ্ছিন্ন তথ্য ও বিভ্রান্তিকর গবেষণার ফলাফল আলোচনায় আসছে। যা গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারের কারণে দারুন আতঙ্কে পড়ছেন সাধারণ মানুষ বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশের খবর পত্রিকা আয়োজিত  ‘নিরাপদ খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পোল্ট্রিখাতে ট্যানারি বর্জ্য  ব্যবহার হচ্ছে- এমন খবরের কারণে এ খাতে এখন ধস নেমেছে। আমি বলছি না যে সেটা হয় না। কিন্তু দশমিক শূন্য এক শতাংশে যদি তা হয়, তারজন্য পুরো খাত ধ্বংস হওয়া ঠিক নয়। আমরা এখনও অনেকেই ফার্মের মুরগি খাই না, কিন্ত বিল গেটস থেকে শুরু করে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের সকলে কিন্তু এই মুরগি খাচ্ছে।

কিছু দিন আগে ওঠা দুধের প্রসংঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোন কিছু প্রচার করার আগে বুঝতে হবে, জানতে হবে। বিজ্ঞানীদের মতামত নিতে হবে ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল জানতে হবে। কোন খাদ্য কতটুকু নিরাপদ এ বিষয়ে সুনিদৃষ্ট তথ্য-উপাত্ত নিতে হবে। আবার যারা গবেষণা করছেন তাদের মধ্যেও সমন্বয় প্রয়োজন।

এখনও দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলার স্যানেট্যারি অফিসাররা নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না বলে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা শুধু মিষ্টির দোকানে ১৯৯৮ সালের ফুড এভিডেন্স অনুসারে দুধে ১০ শতাংশ ফ্যাট রয়েছে কিনা সেটা নিয়ে ব্যস্ত। অন্যকোন কাজই তাদের নেই। এখনও তারা শুধু খামারিকে জ্বালাতন করেন। কিন্তু  দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আইনে থাকলেও ব্যস্তবে দুধে সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি ফ্যাট থাকা সম্ভবই নয়।

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য আইন ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষও সন্তোষজন কার্যক্রম করতে পারছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে সবকিছু খুবই ধীরগতির। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জন্যও প্রচুর সময় প্রয়োজন। তাদের লোকবল যথেষ্ঠ নয়। কিছুদিন আগে এর চেয়ারম্যান হিসেবে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি আর চারমাস পড়ে অবসরে যাবেন। এমন হলে উনি (নিরাপদ খাদ্যের চেয়ারম্যান) কিভাবে একটি সংগঠনকে গুছিয়ে নেবেন।

কৃষিমন্ত্রী সকলের উদ্দেশে বলেন, খাদ্যকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সকলের। উৎপাদক থেকে শুরু করে ভোক্তা এবং প্রক্রিয়াজাতকারী সকলের। আমরা যার যার অবস্থান থেকে যে দায়িত্বটুকু আছে তা পালন করলে এ সমস্যা সমাধান সহজ। আমরা কি আমাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছি? আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন , উপলব্ধির যায়গাটায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, আম পোল্ট্রি দুধসহ বিভিন্ন খাদ্য নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে ভিন্ন ভিন্ন গবেষণায় তথ্যের কারণে। একসময় শাক সবজিতে ফরমালিন নিয়েও বেশ আতঙ্ক ছিল। কিন্তু পরে গবেষণায় দেখা গেছে সেসবে ফরমালিন নেই। যা ব্যবহার হচ্ছে সেটা ইথিফেন, যা পরিমিত মাত্রায় স্বাস্থ্যসম্মত ও সারাবিশ্বে স্বীকৃত। আবার লেড, ক্যাডমিয়ামের মতো যে কোন ক্ষতিকারক উপাদান খাদ্যে পাওয়া গেলেই সে খবরে জনমনে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ওই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় জনগণ। কিন্তু পরিমিত মাত্রায় ওইসব ক্ষতিকারক উপাদানও শরীরে সহনশীল।

গোল টেবিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। গোল টেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এর প্রফেসর ড. খুরশিদ জাহান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ড. মো. সালেহ আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই অ্যাগ্রোলিংক এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফাহ আনসারি, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহারিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়ায়েস কবীর। আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহারিচালকমো. হামিদুর রহমানসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাংবাদিকরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের খবরের উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন।

অর্থসূচক/এআর/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ