দাঁড়াতেই পারছে না বাজার, আজও দর বড় পতন
শুক্রবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
হতাশা আতঙ্কে কাবু পুঁজিবাজার

দাঁড়াতেই পারছে না বাজার, আজও দর বড় পতন

কোনো কিছুতেই আস্থা আসছে না পুঁজিবাজারে। কমছে না বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ, হতাশা। পরিস্থিতির উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস, ব্যাংকের এডিআর রেশিও বাড়ানো ইত্যাদি ইতিবাচক বিষয়ের পরও আজ বুধবারের দর পতন বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।

stock-crash

আজ বাজারে শুধু মূল্যসূচকই কমেনি, লেনদেনও বেশ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ৪শ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে।

উল্লেখ, নাজুক পুঁজিবাজারে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে সোমবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসলামুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুইঁয়া, বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এই বৈঠকে অংশ নেন।

সভা শেষে অনুষ্ঠত ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি দেশের অর্থনীতির মতোই পুঁজিবাজারকেও একইরকম গতিশীল দেখতে চান। আর তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেছিলেন, পুঁজিবাজারের জন্য প্রয়োজন হলে তারা আরও প্রণোদনা দেবেন। অন্যদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের অনুপাত (ADR Ratio) বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সক্ষমতা বেড়েছে। এগুলো আগের চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তাতে পুঁজিবাজারের তারল্য পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু এতসব উদ্যোগের  পরও বাজারে গতি ফেরেনি। বাড়েনি লেনদেন ও সূচক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা এত বেশি নড়বড়ে হয়ে গেছে যে, কোনো উদ্যোগে তা ঠিক হচ্ছে না। তারা কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এ কারণে নতুন বিনিয়োগ তো করছেনই না, বরং অনেকেই বিদ্যমান বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে সাইডলাইনে চলে যাচ্ছেন।

আস্থাহীনতার পাশাপাশি কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার লক্ষ্যেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দরপতনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়ে বাজার মনিটর করা প্রয়োজন।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান মূল্য যৌক্তিক স্তরের চেয়েও নিচে। অন্যদিকে কিছু ইতিবাচক বিষয় ছাড়া, নেতিবাচক কিছুই নেই। তাই অকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করাই হবে বুদ্ধিমানের মতো কাজ। পাশাপাশি এই মূল্যস্তরকে নতুন বিনিয়োগের জন্য খুবই অনুকুল মনে করছেন তারা।


ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হোন

আগে আগে জানুন শেয়ারবাজারের সব খবর

প্রিয় পাঠক, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত দেশ-বিদেশের নানা খবর ও বিশ্লেষণ পেতে Sharebazaar- News & Analysis নামের ফেসবুক গ্রুপের সদস্য হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ রইল।


গতকালের মত আজ  বুধবারও ডিএসইতে লেনদেনের শুরুটা ছিল কিছুটা আশা জাগানিয়া। প্রথম ৪০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিয়ের চেয়ে প্রায় ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৬১ পয়েন্টে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু এর কয়েক মিনিট পরই সূচক উল্টো দিকে বাঁক নেয়। দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৮ দশমিক ০১ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ৪০ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বা প্রায় ৮৩ শতাংশ কম।

আজ ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩শ ৭১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৪ কোটি  ২ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম।

এই বিভাগের আরো সংবাদ