অনিরাপদ ভবনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা!
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

অনিরাপদ ভবনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা!

Sun-moon-star-Vobon_Dominicনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে মতিঝিলের একটি ভবনে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণাধীন এ ভবনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে কাজ করতে হচ্ছে দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে। নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে ক্ষুব্ধ এসব কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে,নানামুখী চাহিদার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে খোলা হয়েছে নতুন কিছু বিভাগ। এসব বিভাগের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রচুর জনবল। এতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় নতুন ফ্লোর ভাড়া নেয়া হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরে মাত্র দুই দিনের নোটিশে ব্যাংকের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-২, বিভাগ-৩ ও বিভাগ-৪কে নির্মাণাধীন এ ভবনে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অনুসন্ধানে করে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা স্থাপনকৃত  ভাড়া করা এ বহুতল ভবনটি এখনও অপূর্ণাঙ্গ। শুধুমাত্র পলেস্তার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফ্যান, টেলিফোন, ইন্টারনেটসহ আধুইনক কোনো সুবিধাই নেই এখানে। নেই কোন অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রও। হঠাৎ আগুন লাগলে জরুরি বহিঃগমন পথও এখানে নেই। একটি মাত্র সিড়ি থাকেলেও তা এখনও অসমাপ্ত। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ভবনটিতে নিশ্চিত করা হয়নি। যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল ভবনে প্রবেশ করতে নানা স্তরের নিরাপত্তা বেস্টনি পার হতে হয় সেখানে এ ভবনে যে কেউ  অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এ শাখায় যেকোনো সময় মারাত্নক অঘটন ঘটে যাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করেন অনেক কর্মকর্তা।

এদিকে ভাড়া করা ভবনটি নিয়ে অনিয়মের অনেক আলামতও পাওয়া গেছে। অনুসন্ধনে জানা গেছে, আগামী ৬ বছরের জন্য চলতি বছরের আগস্ট থেকেই ভাড়া নেয়া হয়েছে ভবনটি। কিন্তু সেখানে ভবনের কাজ শেষ না হওয়া শর্তেও তড়িঘড়ি করে নভেম্বরে শাখা স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বের চার মাস ব্যবহার না করলেও আগস্ট মাস থেকেই ভাড়ার টাকা কাটা হয়েছে ব্যাংকের হিসেব থেকে।

তাছাড়া, ভবনের ভাড়ার জন্য অগ্রিম হিসেবে দেয়া হয়েছে ১২ কোটি টাকা। ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে গুণতে হবে ৩৭ লাখ টাকা। যে ১২ কোটি টাকা শুধু অগ্রিম হিসেবে দেয়া হয়েছে তা দিয়েই সমপরিমাণ ফ্লোর কেনা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা। একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই এ ভবন ভাড়া নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ত

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভবনে কাজ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে বলেন, ভবনটি এখনও অসম্পূর্ণ। এখানে প্রায় প্রতি ফ্লোরেই কাজ চলছে। তাছাড়া একটা ব্যাংকের জন্য যেসব সুযোগ সুবিধা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দরকার তা এ ভবনে নেই। ফলে এখানে কাজ করা অধিকাংশ কর্মকর্তাই অলস সময় কাটাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ভবনে বেসরকারী কয়েকটি ব্যাংকের শাখা ও প্রধান কার্যালয় রয়েছে। একই ভবনে থেকে কীভাবে ওই ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, নতুন এ ভবন নিয়ে কোন দুর্নীতি করা হয়নি। যা করা হয়েছে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বোর্ডের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে। আগস্ট থেকে ভাড়া নিযে ব্যাংকের জন্য উপযোগী করতেই চার মাস চলে গেছে বলে তিনি জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কোন দুর্নীতির নজির নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

 

 

এইউএন

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ