লভ্যাংশ দিচ্ছে ওটিসির কোম্পানিগুলো: ফিরছে না মূল মার্কেটে
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

লভ্যাংশ দিচ্ছে ওটিসির কোম্পানিগুলো: ফিরছে না মূল মার্কেটে

dseগত ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য  ওভার দ্যা কাউন্টার বা ওটিসি মাকেটে থাকা পাঁচটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। লভ্যাংশের হার মূল মার্কেটে থাকা অনেক কোম্পানির তুলনায় ভালো। তা সত্ত্বেও মূল মার্কেটে ফিরছে না কোম্পানিগুলো।

সমাপ্ত হিসাববছরে লভ্যাংশ ঘোষণাকারী কোম্পানিগুলো হলো- সোনালি পেপার অ্যাণ্ড বোর্ড মিলস, নিলয় সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস, বিডি প্লান্টেশন, তমিজদ্দিন টেক্সটাইল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিগুলোকে বাধ্যতামুলক কিছু নিয়মের পরিপালন করতে হয়। নিয়ম পরিপালনে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানিগুলোকে ওটিসিতে পাঠানো হয়।

২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ওটিসি মার্কেট গঠনের পর থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিয়মিত এজিএম না করা,লভ্যাংশ ঘোষণা না করা,আর্থিক প্রতিবেদন সময়মতো বা কখনোই দাখিল না করা উৎপাদন বন্ধ থাকা অথবা কোম্পানির শেয়ার ডিমেট না হওয়া ইত্যাদি কারণে বিভিন্ন সময় অনেকগুলো কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। উপরের শর্তগুলো পরিপালন সাপেক্ষে এসব কোম্পানির আবার তারা মূল মার্কেটে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, ওটিসির কোম্পানিগুলো মূল মার্কটে তালিকাভুক্ত করার দায়িত্ব হলো ডিএসই’র। যে কারণে তারা ওটিসিতে গিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারলে কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএসই তাদেরকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করবে। এতে তাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।

ওটিসির কোম্পানিগুলো মূল মার্কেটে ফেরানোর বিষয়ে ডিএসই সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু অর্থসূচককে বলেন, যে সব কারণে তারা মূল মার্কেট থেকে ছিটকে পড়েছে, তা পুরণ করতে পারলেই তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। মূল মার্কেটে ফেরিয়ে নিতে আমাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই।

লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

ওটিসি মার্কেটের সোনালি পেপার অ্যাণ্ড বোর্ড মিলস পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ২৫ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভি হয়েছে ৭০১ টাকা ৫৫ পয়সা।

কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামি বছরের ১৫ জানুয়ারি। এর রের্কড তারিখ ১৩ নভেম্বর। কোম্পানিটি ১৯৮৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

নিলয় সিমেন্ট ইন্ডাসিট্রিজ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৯৬ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। কোম্পানিটি ১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস শেয়ারহোল্ডারদের জন্য তিন শতাংশ নগদ লভ্যাশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভি হয়েছে তিন টাকা ৪৮ পয়সা। কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি ২০০৭ সালেও তিন শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়।

বিডি প্ল্যান্টেশন শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস করেছে ছয় টাকা ৬৮ পয়সা। এবং শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভি করেছে ৭৮ টাকা ৯৭ পয়সা। কোম্পানিটি ১৯৯১ সালে তালিকাভুক্ত হয়।

তমিজদ্দিন টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে এক টাকা ১৯ পয়সা।  শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বা এনএভি করেছে ১৭২ টাকা ৪০পয়সা। এর আগে ২০১০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়।

জিইউ

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ