মোটা মানুষদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি
শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মোটা মানুষদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি

মোটা মানুষদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বির উপস্থিতির কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারে না। চিকন মানুষদের শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চর্বির উপস্থিতির কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিকভাবে কাজ করে। ফলে তারা প্রাইমারি ডেঙ্গুজ্বরে বা একবার এডিস মশার বাহকের কামড়ের পর ওষুধ বা চিকিৎসাসেবা ছাড়াই সুস্থ হতে পারেন। অন্যদিকে স্থূলকায় মানুষরা দ্রুত সেকেন্ডারি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।

ফলে চিকন মানুষদের চেয়ে মোটা বা স্থূলকায় মানুষদের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ওষুধ ছাড়া জ্বর নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। এক্ষেত্রে গা মুছিয়ে (স্পঞ্জিং) দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণে আনা সবচেয়ে উত্তম। পাশাপাশি জ্বর নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে তিনবেলা ৩টার বেশি না খাওয়া ভালো। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুজ্বর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একেবারে দুর্বল করে দেয়। এ জন্য অন্য যেকোনো রোগে পুনরায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য খেতে হবে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার বিএসএমএমইউয়ের ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, আমরা ১ জনুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরের ওপরে গবেষণা চালিয়েছে। তাতে দেখা গেছে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী মানুষরা ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। দেখা যায়, পুরুষ ও নারীদের আক্রান্তের আনুপাতিক হার ২ দশমিক ৭ ও ১ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীতে চার ধরনের ডেঙ্গুতেই (ডেন-১, ২, ৩ ও ৪) নারী, পুরুষ ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দ্বিতীয়বারের মতো ভিন্ন এক বা একাধিক ডেঙ্গু স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। এর আগে এমনটা দেখা গিয়েছিল ২০০০ সালে। এরপর গত বছর সেরোটাইপ ৩ এ সর্বোচ্চ আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। এইবার এমনকি একজন ব্যক্তির তিন ধরনের সেরোটাইপেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার দেখা দিচ্ছে।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ