এরশাদ মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় হচ্ছেন রংপুরের সাবেক নেতারা

ershad

ershad1coughtপরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে নেয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ এমপিকে সমন্বয়কারী বানিয়ে বহিষ্কৃত জাপার সাবেক মানিক, মোস্তফা ও ইয়াসিরের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির দুর্গ রংপুরকে সামলানার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

পাশাপাশি অতীতে কোন সিদ্ধান্তে ভুল হলে তার জন্য রংপুরবাসীর কাছে সহানভূতি ও ক্ষমা চেয়ে নিজের জন্য দোয়াও কামনা করেছেন এরশাদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এরশাদের ছোট ভাই সাবেক এমপি মোজাম্মেল হোসেন লালুর বড় পুত্র হোসেন মকবুল শাহরিয়ার এমপি।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় এবং এরশাদের পারিবারিক সূত্র জানায়, এরশাদের বিশেষ সহকারীর মাধ্যমে কয়েক দফায় ছোট ভাই সাবেক এমপি মোজাম্মেল হোসেন লালুর বড় পুত্র  রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের বর্তমান এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আব্দুর রউফ মানিক, সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা এবং যুব সংহতির সাবেক সভাপতি এসএম ইয়াসিরকে টেলিফোন করে এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের জন্য এরশাদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী রংপুর বিভাগে এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের সমন্বয়কারী হিসেবে আসিফ এমপি এবং কর্মসূচি গ্রহণের জন্য মোস্তফা, মানিক ও ইয়াসিরকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে সর্বময় দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এরশাদের ওই বিশেষ সহকারী এরশাদের নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিফোনে তাদের জানান, পুরো বিভাগের আরও নেতাদের সাথে এরশাদমুক্তি আন্দোলনের দ্বায়িত্ব পালন করবে আসিফ। তিনি মানিক, মোস্তফা এবং ইয়াসিরের সাথে কো অর্ডিনেট করে কর্মসূচি পালন করবেন। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের কারণে বিষয়টি লিখিতভাবে এখই দেয়া যাচ্ছে না বলেও টেলিফোন নির্দেশনায় উল্লেখ করেন ওই বিশেষ সহকারী। তবে যে কোন মুহুর্তে তা চিঠি আকারে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবেও বলে টেলিফোনে উল্লেখ করা হয়।

টেলিফোন নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করে এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার এমপি এ প্রতিবেদককে জানান, নির্দেশনায় বেশ কয়েকটি পার্ট আছে। তার মধ্যে সব কিছু বলা যাবে না। আমাকে মানিক মোস্তফা ইয়াসির ভাইয়ের সাথে কো অর্ডিনেট করে বড় আব্বার মুক্তি আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমি তাদের সাথে ইতোমধ্যে কথা বলে কো-অর্ডিনেট করার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছি।

প্রাথমিক কাজগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলেই আমরা বড় আব্বার (এরশাদ) মুক্তি আন্দোলনে রংপুরবাসীকে নিয়ে মাঠে নেমে আসবো। তিনি বলেন, বড় আব্বাকে আটক করার বিষয়টি জানার পরেও দেশের অন্যান্য জায়গায় হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে জায়গায় ৯০ ভাগ মানুষ বড় আব্বার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। সেখানেই আন্দোলন শুরু না হওয়ায় বড় আব্বা ব্যাথা পেয়েছেন। এজন্য তিনি আমার মাধ্যমে তার পক্ষ হয়ে রংপুরবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেছেন, ‘তুমি আমার পক্ষ থেকে রংপুরবাসীকে বলো- আমি (এরশাদ) যদি অতীতে কোনো ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। তাহলে যেন রংপুরবাসী আমাকে ক্ষমা করে দেন। মনের মধ্যে যেন কোনো গোসা না রাখেন। কোনোভাবেই যেন তারা আমাকে ভুল না বোঝেন। আমি এখন বিপদগ্রস্ত। আমাকে যেন তারা উদ্ধার করে।’

এরশাদের ভাতিজা আসিফ বলেন, “আমিও গ্রেপ্তার আতংকে আছি। আমাকেও যেকোন মুহূর্তে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করা সত্ত্বেও আমাকে প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে সাজানো এবং বিলম্ব ইন্টারনেট প্রত্যাহারপত্রের দোহাই দিয়ে আমার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। রংপুরবাসীকে আমি আমার বড় আব্বার মতো এর বিচার দিয়ে রাখলাম।

সূত্র জানায়, অনেক অনুনন বিনয় করেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী হতে পারেন নি রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনে এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার এমপি। তারস্থলে প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এরশাদের একান্ত ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মসিউর রহমান রাঙ্গাকে সেখানে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেয়া হয়। ওই আসনে তখন আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তোলেন।

এরপর শুক্রবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই আসনে আওয়ামী লীগের রুহুল আমীন, জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু শনিবার সন্ধায় নাটকীয়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা ওই আসনে রুহুল আমীন এবং আসিফের প্রার্থীতা বাতিল করে তাদের প্রতীক না দিয়ে জাতীয় পার্টির রাঙ্গাকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এরমাধ্যমে সেখানে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।

শনিবার রাত ৮ টার মধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বদলে যায় রংপুরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির দৃশ্যপট। ঢাকা থেকে এরশাদের পক্ষ হয়ে বিশেষ সহকারী এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের জন্য টেলিফোনেরআসিফ, মানিক , মোস্তফা ও ইয়াসিরকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেন।

প্রসঙ্গত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় নির্বাচনে থাকায় এরশাদ বহিষ্কার করেছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ মানিক, জেলা সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং  যুব সংহতির সভাপতি এসএম ইয়াসিরকে। এ সময় তারা নিজেদের মুল ধারার জাতীয় পার্টি দাবি করে তৃণমূল জাতীয় পার্টি গঠনও করেছিলেন । পরে এরশাদ বাধ্য হয়ে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে তারা তৃণমূল জাতীয় পার্টিও বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু তার পর থেকে তারা জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ছিলেন নিশ্চুপ।

এআর