‘পদ্মা সেতুর নির্মাণে মানুষের কাটা মাথা লাগবে না ’
শুক্রবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘পদ্মা সেতুর নির্মাণে মানুষের কাটা মাথা লাগবে না ’

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে হলে নদীতে মানুষ উৎসর্গ করতে হবে। লাগবে মানুষের কাটা মাথা ও রক্ত। নইলে এই সেতু নির্মাণ করা যাবে না। পিলারে ঠাঁই মিলবে না মাটির। পিলার যতই মাটির নিচে বসানো হোক, তা শক্তি পাবে না।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে ঘিরে এমন নানা গুজব ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকের মুখে মুখে। সম্প্রতি তা ফেসবুকসহ সামাজিক গণমাধ্যমেও কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই গুজব নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে খোদ পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। আজ ৯ জুলাই, মঙ্গলবার তারা এক বিবৃতিতে পুরো বিষয়টিকে মিথ্যা গুজব হিসেবে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে জনগণের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে সরকারের তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সহায়তা চেয়েছে।

গুজবের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে মঙ্গলবার পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বিষয়টি গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে দেশবাসীকে অবহিত করতে গণমাধ্যমে প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানানো হয়।

এই চিঠিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান।

প্রকল্প পরিচালক চিঠিতে জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮১ শতাংশ, নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ। এ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে মানুষের মাথা সংক্রান্ত গুজব মূলত পরিকল্পিতভাবেই ছড়ানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আর আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু মিথ, কিচ্ছা, পৌরানিক কাহিনীর কারণে অনেক সাধারণ মানুষ সহজেই তা বিশ্বাস করছে। এসব গল্পের মধ্যে এমন কিছু গল্প আছে যেগুলো পুকুর ও দীঘি সংক্রান্ত। গল্প অনুসারে, এসব পুকুর ও দীঘি অনেক গভীর করে খননের পরও প্রথমে পানি উঠেনি। কোনো অলৌকিক বা গায়েবি শক্তির কাছ থেকে গায়েবি বার্তা এসেছে অথবা সংশ্লিষ্ট কেউ (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজা অথবা জমিদার) স্বপ্নে দেখেছেন, ওই পুকুর বা দীঘিতে মানুষ বলি না দিলে পানি উঠবে না। ক্ষেত্র বিশেষ মানুষ বলির জায়গায় মানুষের মাথা অথবা মানুষের রক্তের কথা বলা আছে।  গায়েবি বার্তার কথিত শর্ত পূরণ করার পর সেই দীঘিতে পানি উঠেছে।

তবে আধুনিক জ্ঞান-প্রযুক্তির যুগে লোককাহিনীর এই ধরনের ঘটনাকে অবাস্তব, একেবারেই কল্পনাপ্রসূত ও অবৈজ্ঞানিক মনে করা হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের গল্পের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অর্থসূচক/এমএস

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ