আহা! টার্গেটটা এত ছোট কেন
মঙ্গলবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বিশাল জয়

আহা! টার্গেটটা এত ছোট কেন

তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মতোই যেন ঘটনাটা। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুঁড়ে দেওয়া বিশাল সংগ্রহকে মোটেও পাত্তা না দিয়ে বীরদর্পে খেলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। এবারের বিশ্বকাপের আসরে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে ৭ উইকেট আর ৫১ বল বাকি রেখেই জিতে গেছে তারা। বরং ম্যাচ শেষে যেন একটু আফসোসই হল টার্গেটটা ‘ছোট’ বলে। নইলে যে লিটন  দাসের সেঞ্চরিটা হয়ে যেত। এই ম্যাচে ৯৪  রানে অপরাজিত লিটন আর ক’টি বল খেলার সুযোগ পেলেই সেঞ্চুরিটা করে নিতে পারতেন। সাকিবের পাশাপাশি তার সেঞ্চুরিটা হলে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম কোনো ডাবল সেঞ্চুরি হতো।

ও হ্যাঁ, ম্যাচ শেষে কিন্তু সাকিব আল হাসানও অপরাজিত ছিলেন। তিনি করেছেন ১২৪   রান। শুধু তাই নয়, আজকের সেঞ্চুরির ফলে চলতি আসরে সাকিবের সেঞ্চুরি দাঁড়িয়েছে দুটিতে; আরও দুটি হাফ সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের এক আসরে চারটি সেঞ্চুরি করে তিনি নভজাত সিং সিধু (১৯৮৭), শচীন টেন্ডুলকার (১৯৯৬) ও গ্রায়েম স্মিথের (২০০৭) পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া আজকের ম্যাচে আরও কয়েকটি রেকর্ড হয় সাকিবের। তিনি তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে জয় পেল টাইগাররা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রথম ৩২২ রানের পাহাড় ডিঙানো জয় পেয়েছে তারা। এর আগে গত বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৯ রানের রেকর্ড তাড়া করে জয় পেয়েছিল মাশরাফিরা।

আজকের জয়ের ফলে টাইগারদের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বেঁচে রইল। 

Sakib-Al-Hasan.jpg

মুশফিক ছাড়া বাংলাদেশের বাকি সব ব্যাটসম্যানই আজ ভালো করেছেন। উদ্বোধনী জুটিতে তামি-সৌম্য গড়েন ৫২ রানের জুটি। ২৩ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ২৯ রান করেন সৌম্য। আর ৫৩ বলে ছয়টি চারে ৪৮ রান করেন তামিম। এদের মধ্যে কিছুটা দুর্ভগার মতো লেগ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে কিপারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মুশফিকুর রহিম। তার আগে ৫ বলে করেন মাত্র ১ রান।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২১ রান তোলে উইন্ডিজ। ভয়ংকর ক্রিস গেইল ১৩ বল খেলে একটি রানও করতে পারেননি! শেষ পর্যন্ত দলীয় ৬ রানে সাইফউদ্দিনের বলে ক্রিস গেইলের ক্যাচ দুর্দান্তভাবে লুফে নেন মুশফিকুর রহিম। এমন অবস্থায় দলের হাল ধরেন অপর ওপেনার এভিন লুইস এবং শাই হোপ। ৫৯ বলে ফিফটি করেন এভিন লুইস। দুজনের জুটিতে তখন ১১৬ রান এসে গেছে। অবশেষে এই জুটি ভাঙেন সাকিব। তার ঘূর্ণিতে বদলি ফিল্ডার সাব্বিরের তালুবন্দি হন ৬৭ বলে ৭০ করা এভিন লুইস।

এরপর ৭৫ বলে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ৬ষ্ঠ ফিফটি করেন শাই হোপ। উইকেটে এসে রানের জন্য ছটফট করছিলেন নিকোলাস পুরান (২৫)। তাকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। লং অন থেকে দারুন ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার। বিধ্বংসী শিমরন হেটমায়ার উইকেটে এসেই তাণ্ডব শুরু করেন। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মাত্র ২৫ বলে। শেষ পর্যন্ত এই মারকাটারি ব্যাটসম্যানকে তামিম ইকবালের তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজ। ক্রিস গেইলের মতো আরেক ভয়ংকর হার্ডহিটার আন্দ্রে রাসেলও ‘ডাক’ মারেন আজ। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মুশফিকের গ্লাভসে ধরা পড়েন এই দানবীয় ব্যাটসম্যান।

এরপর উইকেটে এসে ঝড় তোলেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ১৫ বলে ৩৩ রান করে বিপজ্জনক এই অল-রাউন্ডার সাইফউদ্দিনের শিকার হন। শাই হোপকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন মুস্তাফিজ। ১২১ বলে ৯৬ রান করা হোপকে লিটন দাসের তালুবন্দি করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন কাটার মাস্টার। শেষদিকে ব্র্যাভোর ১৫ বলে ১৬ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২১ রান। শেষ বলে ব্র্যাভোকে বোল্ড করে দেন সাইফ।

৩টি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ আর সাইফউদ্দিন। আর সাকিব নেন ২টি।

বিশাল রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য দাস। এই জুটি ভাঙ্গার আগে ৫২ রানের সংগ্রহ দাঁড়ায়। মাঝখানে পর পর দুই ওভারে তামিম ইকবাল ও মুশফিক আউট হয়ে গেলে সাময়িকভাবে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি। বরং কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায়। সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের জুটি ১৩৫ বলে ১৮৯ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন। এর আগে এবারের আসরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ১৪২ ছিল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি। একই বিশ্বকাপে নিজেদের রেকর্ড ভেঙ্গে নতুন রেকর্ড গড়ার ঘটনায় প্রমাণ হয় বাংলাদেশ এখন কতটা ফর্মে আছে।

আজকে সাকিব এবং লিটন-উভয়ের ব্যাটিং ছিল ঝলমলে, উপভোগ্য। অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংসে সাকিব ১৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন। খেলেছেন মাত্র ৯৯ বল। তার স্ট্রাইক রেট ১২৫ দশমিক ২৫। অন্যদিকে ৯৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে লিটন হাঁকিয়েছেন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টমাস ও রাসেল ১টি করে উইকেট নেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ৩২১/৮ (গেইল ০, লুইস ৭০, হোপ ৯৬, পুরান ২৫, হেটমায়ার ৫০, রাসেল ০, হোল্ডার ৩৩, ব্রাভো ১৯, টমাস ৬*; মাশরাফি ৮-১-৩৭-০, সাইফ ১০-১-৭২-৩, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৯-৩, মিরাজ ৯-০-৫৭-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০, সাকিব ৮-০-৫৪-২)।

বাংলাদেশ: ৪১.৩ ওভারে ৩২২/৩ (তামিম ৪৮, সৌম্য ২৯, সাকিব ১২৪*, মুশফিক ১, লিটন ৯৪*; কটরেল ১০-০-৬৫-০, হোল্ডার ৯-০-৬২-০, রাসেল ৬-০-৪২-১, গ্যাব্রিয়েল ৮.৩-০-৭৮-০, টমাস ৬-০-৫২-১, গেইল ২-০-২২-০)

এই বিভাগের আরো সংবাদ