সুরক্ষা ও সঞ্চয়-দুই কারণেই জীবন বীমা পলিসি দরকারঃ সিইও, এলআইসি
শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

সুরক্ষা ও সঞ্চয়-দুই কারণেই জীবন বীমা পলিসি দরকারঃ সিইও, এলআইসি

অরূপ দাসগুপ্ত এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। এলআইসি বাংলাদেশ  যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র জীবন বীমা কোম্পানি। এই কোম্পানির প্রধান উদ্যোক্তা (sponsor) ভারতের লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি) ও এনডিআই ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া। এলআইসি একটি আন্তর্জাতিক বীমা কোম্পানি। বিশ্বের ১৫টি দেশে ভারতভিত্তিক এই কোম্পানিটির ব্যবসা রয়েছে। এর গ্রাহক সংখ্যা ৩৬ কোটি। এলআইসি বাংলাদেশের স্থানীয় দুই স্পন্সর হচ্ছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি স্ট্রাটেজিক ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড।

এলআইসি বাংলাদেশ এর সিইও অরূপ দাসগুপ্ত সম্প্রতি অর্থসূচককে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে দেশের জীবনবীমা খাতের নানাদিক ও এলআইসি বাংলাদেশ কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন অর্থসূচকের  কমিউনিকেশন অফিসার আনিকা হোসেন ভুইয়া প্রমি

দেশের জীবন বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা কেমন? এই ব্যবসার আকার কী বাড়ছে? বাড়লে কি হারে বাড়ছে তা?

জীবন বীমা খাতের অবস্থা মোটামুটি। প্রতি বছরই এই ব্যবসার আকার বাড়ছে। বৃদ্ধির হার ১০ থেকে ১২ শতাংশের মতো। এটিকে খুব ভালো বলা যাবে না। তবে একেবারে হতাশ হবার মতোও নয়। এর মধ্যেই কিছু কোম্পানি খুব ভালো কাজ করছে, তাদের ভালো ব্যবসা হচ্ছে। আবার কিছু কোম্পানির অবস্থা বেশ খারাপ। আশা করা যায় ভবিষ্যতে জীবন বীমার চিত্র আমাদের দেশে আরো ভালো হবে।

১৬ কোটি মানুষের এই দেশে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর গ্রাহক সংখ্যা কিন্তু তেমন বেশি নয়। গ্রাহক সংখ্যা সেভাবে বাড়ছে না কেন? আরও বেশি মানুষকে এই খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কি ধরনের উদ্যোগ দরকার?

ঠিকই বলেছেন, আমাদের যতটা সম্ভাবনা আছে, ততটা বড় হয়নি বাজার। ১৬ কোটি মানুষের দেশে জীবন বীমার গ্রাহকের সংখ্যা যে খুব একটা বাড়ছে না তার কিছু কারণ আছে। তবে মূল কারণ আমাদের ব্যর্থতা। আসরা আসলে সেভাবে সম্ভাব্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারিনি; তাদেরকে জীবন বীমার উপযোগিতা বোঝাতে পারিনি। যদি আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারি এবং জীবন বীমার উপযোগিতা ও লাভ সম্পর্কে বুঝাতে পারি তাহলে অবশ্যই তারা জীবন বীমার  প্রতি আকৃষ্ট হবেন।

জীবন বীমা খাতের বিকাশে কোনো ধরনের আইনী সীমাবদ্ধতা কী আছে? অথবা কোনো নীতি সমর্থন প্রয়োজন কি-না?

বীমা শিল্পের বিকাশে আইনি সীমাবদ্ধতা নেই। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন সময় ভিন্ন আইন নিয়ে আসার দরকার হয়; এজন্য বীমা আইডিআরএ আছে এবং তারা খুবই ভালো কাজ করছে। গত কয়েক বছরে আইডিআরএ দেশের জীবন বীমা খাতের জন্য বেশ কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। যা এই খাতে শৃঙ্খলা আনা, মান উন্নয়ন ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এটা আশা করা যায় সময় সময় আইডিআর আরো ভালো পদক্ষেপ নেবে যাতে জীবন বীমার আরও বিকাশ ঘটে।

একজন মানুষ জীবন বীমার পলিসি কেন নেবে? ব্যক্তির জীবনে প্রয়োজন এর কতটুকু? কিভাবে সে লাভবান হতে পারে?

জীবন বীমা দুই ধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে- সুরক্ষা ও সঞ্চয়। দুটিই যে কোনো মানুষের জন্য জরুরী। আমাদের জীবনে দুই ধরনের ঝুঁকি থাকে-আমি যদি তাড়াতাড়ি মারা যাই আমার পরিবারের আমার উপর নির্ভর করে আছে তাদের কি হবে; দ্বিতীয়তঃ আমি যদি বেশি দিন বাঁচি তাহলে আমার কি হবে অর্থাৎ আমি কিভাবে চলবো। আগে মৃত্যু ঘটলে জীবন বীমা আমার সন্তানদের কিছুটা সুরক্ষা দেবে আর বেশি দিন বাঁচলে বীমা থেকে প্রাপ্ত টাকা সঞ্চয় হিসেবে আমার জীবন নির্বাহে কিছুটা সহায়তা করবে।

এলআইসি বাংলাদেশ-এর বিশেষত্ব কি? কেন একজন মানুষ এই কোম্পানির পলিসি নেবে?

এলআইসি বাংলাদেশ এর মূল স্পন্সর লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি) একটি আন্তর্জাতিক জীবন বীমা কোম্পানি। কোম্পানিটি ১৯৫৬ সাল থেকে জীবন বীমা নিয়ে কাজ করছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৫টি দেশে এলআইসির কার্যক্রম রয়েছে। এলআইসির গ্রাহক সংখ্যা৩৬ কোটি। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জীবন বীমা কোম্পানি।  এই দুটি তথ্য বুঝিয়ে দেয় যে বিশ্ব জুড়ে গ্রাহকের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কতখানি। এই আস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা ও সেবার সর্বোচ্চ মানই হচ্ছে আমাদের বিশেষত্ব।

সেবার সর্বোচ্চ মান, কমিটমেন্ট আর গ্রাহক-বান্ধব পলিসির কারণে যে কোনো মানুষ আমাদের পলিসি নেবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের প্রত্যেকটি পলিসি গ্রাহকের সুবিধার কথা ভেবে বিশেষ উপযোগী করে বানানো হয়েছে। আমাদের প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে কম কিন্তু বেনিফিট তুলনামূলকভাবে বেশি। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত উচ্চ মধ্যবিত্ত- সবাই যাতে আমাদের কাছ থেকে পলিসি নিতে পারেন সেই অনুযায়ী আমরা প্রিমিয়াম ঠীক করে থাকি। এছাড়া আমাদের পলিসি গ্রাহককে যে সেবা দেওয়া হয় সেটা বিশ্ব মানের। আমরা গত দুই বছরে অনেকগুলো দাবি পরিশোধ করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পেমেন্ট করা হয়েছে। আমরা কোন প্ল্যান পেন্ডিং রাখি না।

বর্তমানে এলআইসি’র কি কি প্রোডাক্ট রয়েছে? এসব প্রোডাক্টের বিশেষত্ব কি?

আমাদের এই মুহূর্তে নয় রকমের প্রোডাক্ট আছে। তার মধ্যে বিশেষ প্রোডাক্ট হচ্ছে- পেনশন প্ল্যান। যে কোনো মানুষ ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে পেনশন প্ল্যান নিতে পারেন। গ্রাহক যতদিন বেঁচে থাকবেন, এলআইসি ততদিন তাকে পেনশন দিয়ে যাবে সুরক্ষার সাথে এবং এর একটি ম্যাচিউরিটি ভ্যালুও আছে। আমাদের দ্বিতীয় বিশেষ পলিসি আলো শিশু শিক্ষা বীমা। শূন্য থেকে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুর জন্য এই পলিসি বিশেষ উপযোগী। শিশুর ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার খরচ এলআইসি বহন করবে; একই সাথে শিশুর জীবন সুরক্ষা এবং পিতা-মাতার  সুরক্ষাও প্রদান করা হয় এই পলিসিতে।

এলআইসি বাংলাদেশ এর আগামী দিনের পরিকল্পনা কি?

এখন পর্যন্ত আমরা ১২ টি শাখা অফিস খুলেছি, প্রায় ২০০০ এজেন্টকে ট্রেনিং দিয়েছছি। আমরা নয় ধরনের প্রোডাক্ট আমরা বিক্রি করছি। এই মুহূর্তে আমাদের গ্রাহক সংখ্যা ২০ হাজার।

আমরা গ্রাহককে আরও বেশি সেবা দিতে চাই। সেবার পরিধি বাড়াতে চাই। যেদিন একজন গ্রাহকের টাকা পাওয়ার কথা, সেই দিনই যেন তিনি টাকা পেতে পারেন সব সময়ের জন্য তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমরা। আমাদের সাথে খুশি থাকে, তার যাতে লাভ হয় তার জন্য সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে। আমাদের গ্রাহকদের জন্য প্রিমিয়ামের টাকা জমা দেওয়ার অনেক সহজ সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন। রকেট সার্ভিসের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া সম্ভব। এমনকি ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও গ্রাহক প্রিমিয়াম জমা দিতে পারবেন। অর্থাৎ আধুনিকতম টেকনোলজির সাপোর্ট আমরা গ্রাহককে দিচ্ছি, যা বাংলাদেশের খুব কম সং জীবন বীমা কোম্পানি তা দিচ্ছে বা দিতে পারছে। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার এই চেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আর কী কী উপায়ে সেবার মান আরও উন্নত করা যায়, সহজ করা যায় সে চেষ্টাও চালিয়ে যাবো আমরা।

এলআইসি বাংলাদেশ-এর পুঁজিবাজারে আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

অবশ্যই আমাদের পুঁজিবাজারে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে আমরা আমাদের ব্যবসা আরেকটু গুছিয়ে নিতে চাই। সেবার পরিধি বাড়াতে চাই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ