'ইয়াবা ডন' সাইফুলসহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২
সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

‘ইয়াবা ডন’ সাইফুলসহ বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ভোর ও বৃহস্পতিবার রাতেএ সব ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা-অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, দেশের শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুল করিমকে পুলিশ অস্ত্র ও মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত কয়েক দিন আগে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান এনে টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমানা প্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদীর পাড়ে মজুদ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে সেখানে যায়। তখন তার অস্ত্রধারী সহযোগীরা পুলিশকে গুলি করে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে আটক সাইফুল করিম (৪৫) গুলিবিদ্ধ হয়। পরে গুরুতর আহত গুলিবিদ্ধ ইয়াবা ডন সাইফুল করিমকে (৪৫) টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি করে ৯টি এলজি, ৪২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা এবং এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে।

ওসি প্রদীপ আরও জানান, সাইফুলের বিরুদ্ধে টেকনাফ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম থানায় ৭টি মামলা রয়েছে। টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিলবুনিয়া পাড়া এলাকার মো. হানিফ প্রকাশ ওরফে হানিফ ডাক্তারের ছেলে সাইফুল করিম।

গত বছর মে মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তালিকায় ৭৩ শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে সাইফুল করিমের নাম ছিল ২ নম্বরে। ১ নম্বরে রয়েছে টেকনাফের বিতর্কিত সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদির নাম। ওই তালিকায় বদির ছোট ভাই মুজিবুর রহমান, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলমসহ অনেকের নাম রয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, মিয়ানমারের ইয়াবা কারখানার মালিকরা লাখ লাখ ইয়াবার চালান পাঠায় সাইফুলের কাছে। কারণ মিয়ানমারে স্থাপিত ৩৮টি ইয়াবা কারখানায় উৎপাদিত মাল বিক্রির একমাত্র মার্কেট হচ্ছে বাংলাদেশ। এই ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার্থে মিয়ানমার-বাংলাদেশ চলাচলের জন্য একাধিক জাহাজও কিনেছিল সাইফুল।

অপরদিকে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল ফয়সল হাসান খান জানান, ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে এমন সংবাদে বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ বিওপি একটি বিশেষ টহলদল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। টহলদল দূর থেকে কয়েকজন লোককে হস্তচালিত নৌকা নিয়ে নাফনদী পার হয়ে নৌকাটি আসতে দেখে টহলদল চ্যালেঞ্জ করলে বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি পাল্টা গুলি চালালে এক পর্যায়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাঁদার মধ্যে পরে থাকতে দেখে। পরে নৌকাটি তল্লাশি করে এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১টি লোহার ধারালো কিরিচ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ