বিদ্যুৎ ছাড়াই জীবন পার ভারতের এক অধ্যাপকের!
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বিদ্যুৎ ছাড়াই জীবন পার ভারতের এক অধ্যাপকের!

গ্রীষ্মকাল তুঙ্গে। মাথার উপর পাখা চললেও দরদরিয়ে ঘামছেন আপনি। পাখার আরাম যথেষ্ট নয় বলে বসিয়েছেন কুলার। কুলারের আরামও যথেষ্ট নয় যখন বসিয়ে ফেলছেন দামী এয়ার কন্ডিশনার! শীতে জবুথবু হলেই হিটার…. বিদ্যুতের আশীর্বাদে আরাম আসছে শরীর জুড়ে। কিন্তু এরই মাঝে এমন মানুষও রয়েছেন যিনি প্রায় সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন বিদ্যুৎ ছাড়াই। কোনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইলেকট্রিসিটি হীনতার গল্প নয় এটা। স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন কাটিয়েছেন ভারতের এক অধ্যাপক।

দেশটির পুনেতে বসবাসরত এমনই এক প্রকৃতিপ্রেমীর খবর জানায় এনডিটিভি। বয়স ৭৯ বছর হলেও বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

হেমা সানে নামে ওই নারী ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোটানিতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর বহু বছর তিনি পুণের গারওয়ারে কলেজে অধ্যাপনা করেন।

জানা গেছে, প্রকৃতির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার কারণেই বিদ্যুতের সুযোগ সুবিধা থেকে সারাজীবন দূরে থেকেছেন হেমা। পুনের বুধওয়ার পেটের একটি ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বসবাস করেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের গাছ এবং পাখি বেষ্টিত হেমার বাড়িতে সকাল শুরু হয় পাখিদের আওয়াজে, রাত্রি নামে ল্যাম্পের আলোতে। ওই কুঁড়েঘরে হেমার সঙ্গী হিসেবে থাকে একটা কুকুর, দুইটি বিড়াল, একটি নেউল এবং অনেক অনেক পাখি।

হেমা বলেন, অনেকে আমাকে পাগল ভাবেন। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

ড. হেমা সানে জানান, সারা জীবনে তিনি বিদ্যুতের প্রয়োজন অনুভব করেননি। তিনি বলেন, লোকেরা প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আপনি কীভাবে বিদ্যুৎ ছাড়াই বাঁচেন? আমি ওদের পাল্টা জিজ্ঞেস করি বিদ্যুৎ নিয়ে আপনি কীভাবে থাকেন?

ড. হেমার ভাষায়, পাখিরাই তার বন্ধু। যখনই তিনি বাড়ির কাজ করেন তখনই ওরা তার কাছে আসে। হেমা বলেন, মানুষজন প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞেস করে, ঘরটা বেঁচে দিচ্ছেন না কেন, অনেক টাকা পাবেন! আমি ওদের সবসময় বলি, বেঁচে দিলে কে এই গাছ- পাখিদের যত্ন নেবে? আমি তো ওদের সাথেই থাকতে চাই।

উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশ বিষয়ে এ পর্যন্ত অনেক বইও লিখেছেন অধ্যাপক হেমা।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ