ArthoSuchak
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

৫০ কোটি টাকার কম হলে আইপিও নয়, বন্ধ হবে প্লেসমেন্ট

এখন থেকে  কোনো কোম্পোনিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসতে হলে ন্যুনতম ৫০ কোট টাকার শেয়ার ছাড়তে হবে। তা না হলে আইপিওতে আসতে পারবে না কোনো কোম্পানি। এই শর্তটি নির্ধারিত মূল্যের (Fixed Price)  আইপিওর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর ক্ষেত্রে তা হতে হবে ১০০ কোটি টাকা।

আজ ২৯ এপ্রিল সোমবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এছাড়া আইপিওতে আসতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সব পরিচালকের ন্যুনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। আর সম্মিলিতভাবে থাকতে হবে ৩০ শতাংশ শেয়ার।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানিতে পরিচালকদের ন্যুনতম ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে উদ্যোক্তাদের (Sponsor) ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, তাদের জন্য আলাদা একটি ক্যাটাগরি চালু করবে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই কোম্পানিগুলো চিনতে পারে।

অন্যদিকে এখন থেকে তালিকার বাইরে থাকা কোনো কোম্পানির মূল্যধন বৃদ্ধির (Capital Raising) জন্য বিএসইসির কোনো অনুমোদন লাগবে না। কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন নিজেদের সিদ্ধান্তেই বাড়াতে পারবে। মূলধন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। এই শেয়ারের ওপর ৩ বছরের লক-ইন থাকবে। পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরুর দিন থেকে এই লক-ইনের মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

জানা গেছে, প্লেসমেন্ট তথা আইপিওর আগে মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্যে শেয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে অরাজকতা ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে বিএসইসিকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আলোকে আজ বিএসইসি স্টেকহোল্ডারদের জরুরি বৈঠক ডেকে তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শের আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি মোঃ শাকিল রিজভী অর্থসূচককে বলেন, খুবই সফল বৈঠক হয়েছে। বিএসইসি আমাদের প্রায় সব প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন অর্থসূচককে বলেন, প্লেসমেন্ট বন্ধ ও আইপিও সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে পুঁজিবাজার সম্ভাব্য সংকট থেকে বেঁচে গেল। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে বাজারে কিছু ইতিবাচক বার্তা যাবে। তার কিছু প্রভাবও দেখা যাবে আশা করি।

সোমবারের বৈঠকে বোনাস শেয়ারেরর ব্যাপারেও বিএসইসি কিছুটা কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। আগামী দিনে বোনাস শেয়ার দিতে হলে আগে মূল্য সংবেদনশীল থ্য (পিএসআই) প্রকাশ করতে হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, কিছুদিনের মধ্যেই বন্ড ইস্যু সংক্রান্ত স্ট্যাম্প ডিউটির জটিলতার অবসান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর এটি হলেই একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট কার্যক্রম শুরু করবে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ