নিউজিল্যান্ডে 'নিপীড়িত' মুসলিম ছাত্রের আত্মহত্যাচেষ্টা
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

নিউজিল্যান্ডে ‘নিপীড়িত’ মুসলিম ছাত্রের আত্মহত্যাচেষ্টা

নিউজিল্যান্ডে এক কিশোর (টিনএজ) স্কুলছাত্রের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তার ওপর ভয়ানক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এ কারণে তাদের ছেলেটি গত সপ্তাহে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। সূত্র: নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

১৪ বছর বয়সী ওই মুসলিম কিশোরটিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় বাবা-মা অকল্যান্ডের হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ছেলেটি ওই হাসপাতালে তিনদিন নিবিড় তত্ত্বাবধানে ছিল। এখন সে পরিবারের পরিচর্যায় বাড়িতে অবস্থান করছে। একজন পারিবারিক মুখপাত্রের মাধ্যমে তার বাবা-মা জানিয়েছেন, বাইরের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া তাদের সন্তানের পরিচর্যায় তারা অসহায় বোধ করছেন।

ওই মুখপাত্র জানান, এই পরিচর্যা করতে গিয়ে তারা অবসাদগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাপ অনুভব করছেন। ছেলেটিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সে আত্মহননের চেষ্টা চালিয়েছিল।

তিনি জানান, ছেলেটি এখনো সুস্থ হয়নি। তারা তাকে (বাবা-মা) নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন।

জানা গেছে, ওই কিশোর অকল্যান্ড সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের শেষের মাসগুলো থেকে এখন পর্যন্ত সে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছে। কারণ, সে বলছে, তার ওপর নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে গেছে। বিকল্প মাধ্যমে সে শিক্ষা গ্রহণ করা শুরু করেছে। তবে স্কুলটির নাম জানাননি ওই পারিবারিক মুখপাত্র।

পরিবারের ওই মুখপাত্র জানান, গত বছরের শেষের দিকে নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল এবং ছেলেটি ‘নিজেকে রক্ষা করতে’ স্কুলে ছুরি নিয়ে যেত।

তিনি জানান, এক চিঠিতে ছেলেটি বলেছে, স্কুলে তাকে প্রহার করা হয়েছে। ‘টেক্সট মেসেজ’ এবং ফোনের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইএসআইএস এবং সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন উপনামে তাকে ডাকা হচ্ছে।

ওই মুখপাত্র জানান, কিছু ছেলে তার (কিশোরটির) গলায় ছুরি রেখে হুমকি দিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ছেলেটিকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল অন্য ছাত্ররা। তাকে হুমকি দিয়ে নিয়মিত ‘টেক্সট মেসেজ’ এবং ফোনকল পাঠিয়েছিল তারা। এ কারণে ভয়ানক মানসিক চাপের মধ্যে ছিল ছেলেটি।

এদিকে, স্কুলটির প্রিন্সিপাল মন্তব্য করেন, ছাত্রদের নিজস্ব বিষয়ে স্কুল কোনো মন্তব্য করতে পারে না। তবে নিপীড়ন গ্রহণযোগ্যস নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ শীর্ষ অগ্রাধিকার। যেকোনো ধরনের পীড়ন অগ্রহণযোগ্য। আমরা স্কুলে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য কঠোর পরিশ্রম করি।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ