মাদারীপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের রিকসা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগায়

freedom_fighter_abul_hossainমাদারিপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন। ১৯৭১ সালে বাংলা মায়ের অধিকার রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েছেন পাকিস্তানী হানাদার দখলদার বাহিনীর ওপর। যুদ্ধে পাকিস্তানীদের ছোড়া বোমার আঘাতে তার শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়ে। দেশ স্বাধীনের পর আবুল হোসেনের যুদ্ধ নামতে হয় অন্য আর এক যুদ্ধে। দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য জীবনের সায়ান্হে এসেও তাকে যুদ্ধ করে যেতে হচ্ছে।

আবুল হোসেন বলেন, পাইগাছাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আমি যুদ্ধ করেছি। এমনকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানীদের বোমার আঘাতে আমার শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল। আমার বাচার কোনও কথাই ছিলনা। হয়তো দেশকে-হানাদার বাহিনী, আলবদর, রাজাকারদের কাছ থেকে মুক্তি করার জন্যই বেচে ছিলাম। একটু সুস্থ্য হয়ে আবারও যুদ্ধে নেমে পড়ি। বাংলাদেশের বাংলা মায়ের অধিকার রক্ষার জন্য জীবনের আশা ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছি। ছিনিয়ে এনেছি আমাদের এই স্বাধীনতা, স্বাধীন বাংলা, স্বাধীন বাংলাদেশ। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও এখনও আমার যুদ্ধ থামেনি। এখন যুদ্ধ করছি বেচে থাকার জন্য, পেটে দুবেলা দুমুটো খাবার দেয়ার জন্য, সংসারের খরচ যোগারের জন্য। আজ যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে তারা হয়তো অনেকেই আমার মতো বেচে থাকার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করছে।

তিনি বলেন, নিজ পৈত্রিক জেলায় কোনও কাজ করতে না পেয়ে অনেক বছর আগে ঢাকায় আসি। অনেকের কাজে গিয়ে কোন কাজ না পেয়ে রিকসা চালানোর কাজে নেমে পড়ি। নিজের একটা রিকসাও নেই। ভাড়ায় রিকসা চালাই। ভাড়ার টাকা জমা দিয়ে যা টাকা পাই তা দিয়ে ৩ ছেলে, ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে কোনভাবে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছি।

ঐ এলাকার সমাজসেবক নুর আলম খান বলেন, আজও মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন ৬৭ বছর বয়সে এসেও পরিবার ও নিজের দু-মুঠো খাবারের জন্য জীবন যুদ্ধে করে যাচ্ছেন।  রাজধানী ঢাকায় তিন চাকার রিকসা চালিয়ে লড়াই করে বেচে আছেন।

কুনিয়া এলাকার স্থানীয় মিঠু বলেন, যাদের জন্য আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করতে পারছি। যাদের ত্যাগের কারণে আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাদের মত একজন মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আজও দারিদ্রতার নিন্মসীমায় বাস করছেন। সরকার যদি তার কর্মস্থানের ব্যাবস্থা করে তাহলে হয়তো জীবনের শেষ সময়ে একটু ভালোভাবে বেচে থাকতে পারবেন। তাই মাদারীপুর কুনিয়া ইউনিয়নবাসির দাবি সরকারীভাবে তাকে আর্থিক বা কর্মস্থানের ব্যাবস্থা করে দেয়া হয় তাহলে তিনি এই শেষ বয়সেও স্বাধীন দেশে দু-মুঠো খেয়ে বেচে থাকতে পারবেন।